বিজ্ঞাপন
১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ভোর ৬টার দিকে উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের উত্তমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—ইমরানের স্ত্রী রুমানা আক্তার (২১), শ্বশুর মাহবুব আলম মিন্টু হাওলাদার (৫৮) ও শাশুড়ি মাহমুদা বেগম (৫৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শনিবার ভোরে রুমানা আক্তার নামাজরত অবস্থায় থাকাকালে ইমরান হোসেন উজ্জ্বল তাকে ধারালো বটি দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ। রুমানার চিৎকার শুনে তার বাবা-মা এগিয়ে এলে তাদেরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে আহত তিনজনকে একটি কক্ষে রেখে বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে ইমরান ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান। তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে উদ্ধার করে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার পর ইমরান হোসেন উজ্জ্বলও ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। খবর পেয়ে বাকেরগঞ্জ থানা তাকে আটক করে।
আটক ইমরান পুলিশের কাছে দাবি করেন, ব্যবসার উদ্দেশ্যে তিনি তার স্ত্রীর কাছে টাকা ধার চেয়েছিলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তার শ্বশুর তাকে হত্যার হুমকি দেন। এ কারণেই তিনি হামলা চালিয়েছেন বলে দাবি করেন ইমরান।
তবে স্থানীয় প্রতিবেশীদের অভিযোগ, ইমরান প্রায়ই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর করতেন। এ কারণে রুমানা কিছুদিন ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার দুই দিন আগে ইমরান শ্বশুরবাড়িতে আসেন এবং শনিবার ভোরে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে তারা জানান।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, দাড়িয়াল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মন্টু হাওলাদারের ছেলে উজ্জ্বল হাওলাদার একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তমপুর গ্রামের মাহবুব আলম মিন্টু হাওলাদারের মেয়ে রুমানা আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। এর জেরে প্রায় দুই মাস আগে রুমানা আক্তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন। ঘটনার দুই দিন আগে উজ্জ্বল হাওলাদার শ্বশুরবাড়িতে আসেন।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জামাইয়ের হামলায় স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ি গুরুতর আহত হয়েছেন। অভিযুক্তকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতের প্রেরণ করা হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...