বিজ্ঞাপন
২০২০ সালের শুরুর দিকে শহরের একটি দোকান থেকে মাছগুলো কেনার সময় এগুলোর প্রজাতি সম্পর্কেও জানতেন না রায়হান। তবে কেনার প্রায় ১৫ দিন পর বালতির পানি পরিবর্তনের সময় মাছগুলোর পেটে ডিম দেখতে পান তিনি। এরপর মাছের প্রতি বাড়িয়ে দেন পরিচর্যা। পোনা ফুটে বের হওয়ার পর তার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে বালতির ছোট পরিসর পেরিয়ে বাড়ির উঠানে পাকা চৌবাচ্চা নির্মাণ করে গড়ে তোলেন নিজের রঙিন মাছের খামার।
বর্তমানে তার খামারে রয়েছে মিক্সগাপ্পি, শর্টটেইল, রেডটেইল, প্লাটিনাম ডাম্বু, ইয়ার অ্যালবাইনো কই, ব্লু হেড সামুরাই, রেড মস্কো, কোবরা, ব্ল্যাক ও হোয়াইট বেলুন মলি, গ্লো টেট্রা, কই কার্প ও মিকি মাউস প্লাটিসহ বিভিন্ন দুর্লভ ও আকর্ষণীয় প্রজাতির মাছ।
উদ্যোক্তা আবু রায়হান জানান, শুরুতে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্য না থাকলেও ধীরে ধীরে মাছের প্রজনন ও পরিচর্যা তার নেশায় পরিণত হয়। পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিও তাকে এ কাজে উৎসাহ জুগিয়েছে।
তিনি বলেন, “মাছগুলোর নিয়মিত প্রজনন দেখে এটি নেশায় পরিণত হয়। পরিবারের পূর্ণ সহযোগিতায় আজ আমার খামারে প্রায় ৫ লাখ টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। ভবিষ্যতে খামারটি আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা আছে।”
রায়হানের রঙিন মাছের ব্যবসা এখন অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই চলছে। ‘রঙিন মাছের খামার নীলফামারী’ নামের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অক্সিজেনযুক্ত ব্যাগে মাছ পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি নীলফামারী ও সৈয়দপুরের খুচরা ব্যবসায়ীরাও তার কাছ থেকে পাইকারি দামে মাছ কিনে নিচ্ছেন। প্রজাতি ও আকারভেদে প্রতিটি মাছ ১০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।
তবে এ সাফল্যের পথ সবসময় মসৃণ ছিল না। বিভিন্ন সময় মাছের রোগব্যাধি ও উকুনের আক্রমণে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। সরকারি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কারিগরি সহায়তা না পাওয়ায় নিজস্ব অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে লবণ, পটাশ, ফিটকিরি ও চুন ব্যবহার করে মাছের চিকিৎসা করেন তিনি।
রায়হানের প্রত্যাশা, সরকারি সার্বিক সহযোগিতা পেলে রঙিন মাছের এই উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারণ করে একসময় রপ্তানিমুখী করা সম্ভব হবে।
নীলফামারী সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম বলেন, আমদানিনির্ভর এই খাতে রায়হানের মতো তরুণ উদ্যোক্তারা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...