Logo Logo

এইচএসসির ফল প্রকাশ : বরিশাল বোর্ডে সবার পেছনে ঝালকাঠি


Splash Image

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ছয় জেলার মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার ঝালকাঠিতে। জেলার চারটি উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলে দেখা দিয়েছে হতাশাজনক চিত্র। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


বিজ্ঞাপন


প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ঝালকাঠি জেলা থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪ হাজার ৬৯৯ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৬৫৩ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৩ হাজার ৪৬ জন। জেলায় পাসের হার প্রায় ৩৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩৮ জন শিক্ষার্থী। উপজেলাভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ১ হাজার ৭৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬৮২ জন। নলছিটি উপজেলায় ১ হাজার ৫৯৮ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৫৪ জন। রাজাপুরে ৯৬৪ জনের মধ্যে পাস করেছে ২৬৮ জন এবং কাঁঠালিয়ায় ৩৯৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ১৪৯ জন।

ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়টি সামনে আসার পর শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষা প্রশাসনের তদারকির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

এদিকে, ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমন ফলাফলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ৩১ অক্টোবর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে দেওয়া এক সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ পরিস্থিতিকে গভীর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

গণবিজ্ঞপ্তিতে কাঁঠালিয়া ও রাজাপুর উপজেলার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার এমন নিম্নমান কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষার্থীদের মেধা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার সময় এসেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মণ্ডলী, গভর্নিং বডি, ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবক সমাজকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে আরও সচেতন হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নিয়মিত ক্লাসের অভাব, নিবিড় তদারকির দুর্বলতা এবং দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য শিক্ষার্থীদের এমন পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। শিক্ষার পরিবেশ ও মান নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কাঠালিয়া উপজেলার মনস্বিতা মহিলা ডিগ্রি কলেজে ৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৬ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। আমুয়া শহীদ রাজা ডিগ্রি কলেজে ২৩১ জনের মধ্যে পাস করেছে ১১৭ জন। তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সরকারি কলেজে ২২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১০ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। পশ্চিম ছিটকী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে ২৫ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১২ জন।

অন্যদিকে, রাজাপুর উপজেলার আলহাজ্ব লালমোন হামিদ মহিলা ডিগ্রি কলেজে ২১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২১ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে তিনজন। বড়ইয়া ডিগ্রি কলেজে ২৮৯ জনের মধ্যে পাস করেছে ৮৯ জন। রাজাপুর সরকারি কলেজে ১৬৪ জনের মধ্যে ৪২ জন এবং আব্দুল মালেক ডিগ্রি কলেজে ৯৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের দাবি, শুধু উদ্বেগ প্রকাশ বা দায় চাপানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পাঠদান, নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনেও এমন ফলাফল অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝালকাঠির শিক্ষা ব্যবস্থার এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...