Logo Logo

২০৫০ সালে দেশে প্রবীণের সংখ্যা হবে প্রায় চার কোটি

প্রবীণবান্ধব সমাজ গঠনে আন্তঃপ্রজন্ম সংযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য


Splash Image

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় চার কোটিতে পৌঁছাবে উল্লেখ করে প্রবীণদের সামাজিক মর্যাদা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও যথাযথ যত্ন নিশ্চিত করতে এখন থেকেই সমন্বিত ও প্রবীণবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার।


বিজ্ঞাপন


শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদযাপন এবং বাংলাদেশ জেরোন্টোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (BGA)-এর নবগঠিত কমিটির অভিষেক উপলক্ষে আয়োজিত ‘গুণীজন সংবর্ধনা, আলোকিত প্রবীণ সম্মাননা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার বলেন, বাংলাদেশের জনমিতিক রূপান্তরের (Demographic Transformation) ফলে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ প্রবীণ ব্যক্তি রয়েছেন। ২০৫০ সালে এ সংখ্যা প্রায় চার কোটিতে পৌঁছাতে পারে। তাই প্রবীণদের সামাজিক অবস্থান, মর্যাদা, যত্ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের জন্য একটি প্রবীণবান্ধব সমাজ গড়ে তুলতে কার্যকর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকায় সব ক্ষেত্রে একযোগে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, কৃষক, পরিবার ও মুয়াজ্জিন এবং পুরোহিতদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ ও বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করেছে। প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণেও এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রবীণদের জন্য পৃথক কর্নার বা সেবা কেন্দ্র চালু করা যেতে পারে। পাশাপাশি কমিউনিটি ওয়ার্কারদের মাধ্যমে প্রবীণদের ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বড় ধরনের আর্থিক ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না; বরং বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোকে কাজে লাগিয়েই কার্যকর অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব। আন্তঃপ্রজন্ম সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার বলেন, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবীণদের যত্ন ও সেবাবিষয়ক ব্যবহারিক শিক্ষা চালু করা যেতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রবীণদের সমস্যার কথা শোনা, তাঁদের খোঁজখবর নেওয়া, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা এবং যত্নের কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তারাও প্রবীণ বয়সে এ ধরনের সামাজিক সহযোগিতা ও সুরক্ষা পাবে।

তিনি এ প্রসঙ্গে শিক্ষার প্রসারে অতীতে বিদ্যালয় পর্যায়ে ব্যবহারিক শিক্ষার উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একসময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে নবম ও দশম শ্রেণিতে ৫০ নম্বরের ব্যবহারিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আশপাশের নিরক্ষর মানুষকে অক্ষরজ্ঞান ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ব্যবস্থা ছিল। অনুরূপভাবে প্রবীণদের সেবা ও সুরক্ষার বিষয়টিও শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষার অংশ করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে নবীন ও প্রবীণদের মধ্যে আন্তঃপ্রজন্ম সংযোগ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে উঠবে। তরুণ প্রজন্ম প্রবীণদের সুরক্ষায় অংশগ্রহণ করলে ভবিষ্যতে তারাও একটি সহমর্মী ও প্রবীণবান্ধব সমাজের সুফল ভোগ করতে পারবে। অনুষ্ঠানে তাঁকে গুণীজন হিসেবে সংবর্ধনা প্রদান করায় বাংলাদেশ জেরোন্টোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার। তিনি এ ধরনের আয়োজনের সফলতা কামনা করে বলেন, প্রবীণদের অধিকার, মর্যাদা, সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের সচেতনতামূলক আয়োজন আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন আগামীতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ও এই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ জেরোন্টোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটির সকল সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টারের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরিচালক ডা. আবু নাসের। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ জেরোন্টোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (BGA) মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন ভূঞা। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবীণ বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের জেরোন্টোলজি অ্যান্ড জেরিয়াট্রিক ওয়েলফেয়ার (GGW) এবং বাংলাদেশ জেরোন্টোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (BGA) যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...