বিজ্ঞাপন
মণিপুর রাজ্য পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার রাজ্যের নোনি জেলায় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে কুকি সম্প্রদায়ের তিন সদস্য নিহত হন।
এ ছাড়া চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া একই সম্প্রদায়ের আরও দুই ব্যক্তির মরদেহ রোববার সকালে ক্যাংপোকপি জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর পরিচালিত তল্লাশি অভিযানের সময় তাদের মরদেহ পাওয়া যায় বলে পুলিশের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কুকি জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা মণিপুরের একটি শীর্ষ সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, নিজেদের আদি ভূমিতে কুকি জনগোষ্ঠীর ওপর সরাসরি ও বিনা উসকানিতে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা।
এদিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজ্যের রাজধানী ইম্ফলসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করছেন। চলমান এই বিক্ষোভের মধ্যেই নতুন করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যে নিজস্ব জাতিগত ভূমির দাবি নিয়ে কুকি ও নাগা উপজাতি জনগোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। কুকি জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। অন্যদিকে, নাগা সম্প্রদায়ের সঙ্গেও ভূমি ও জাতিগত অধিকার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুকি সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্যের হাতে এক নাগা ব্যক্তির লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। পরবর্তী সময়ে গত মে মাসে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের হাতে তিন কুকি যাজক নিহত হন। ওই হত্যাকাণ্ডের পর দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটতে থাকে।
কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের সাম্প্রতিক সংঘাত মণিপুরের আগে থেকেই বিরাজমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও চাকরিতে কোটা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মেইতেই সম্প্রদায়ের সঙ্গেও কুকিদের রক্তক্ষয়ী জাতিগত সংঘাত চলছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এ ছাড়া সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনো বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সূত্র: রয়টার্স।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...