Logo Logo

মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন


Splash Image

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানে বাধা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।


বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জ জেলা ও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কাউন্সিলের উদ্যোগে শহরের আলতাফ উদ্দিন স্কয়ার (ট্রাফিক পয়েন্ট) এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার ১২টি উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সদস্য এবং বিভিন্ন পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একজন মানুষ ছিলেন। তিনি যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার প্রধান সাক্ষী ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর জানাজা ও দাফনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার ঘটনায় তাঁরা গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কাউন্সিলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী নুরুল মোমেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আসাদ উল্লাহ সরকার, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কাউন্সিলের কমান্ডার আব্দুল মজিদ, দোয়ারাবাজার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সোবাহান, শান্তিগঞ্জ উপজেলা কমান্ডার আতাউর রহমান, ছাতক উপজেলা কমান্ডার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা তোতা মিয়া, জেলা মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ডের সভাপতি ওবায়দুর রহমান কুবাদ এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মো. সুহেল মিয়া প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষ নয়, বরং সব ধর্মের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ। সেই স্বাধীন দেশের মাটিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।

তাঁরা আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে দেশ স্বাধীন করেননি। একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জীবন বাজি রেখে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। অথচ স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও যদি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানে বাধা দেওয়া হয়, তবে তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার মূল আদর্শের ওপর সরাসরি আঘাত।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রতি অসম্মান নয়, বরং দেশের সব মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি অবমাননার শামিল। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তাঁরা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও অবদানকে কোনোভাবেই অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। যাঁরা দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন, তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেক নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনের মতো ধর্মীয় ও মানবিক কর্মসূচিতেও বাধা সৃষ্টি করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

এ সময় সরকারপ্রধানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা প্রদান এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এ ধরনের অসম্মান ও হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানান তাঁরা।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় তাঁরা মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষায় তাঁরা ঐক্যবদ্ধ। দেশের স্বাধীনতা অর্জনে যাঁদের অসামান্য অবদান রয়েছে, তাঁদের অসম্মান করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তাঁরা সবসময় সোচ্চার থাকবেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...