Logo Logo

শেষ হচ্ছে নেতানিয়াহু অধ্যায়

ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকোট


Splash Image

নতুন সরকার গঠনের জন্য আইজেনকোট সময় পাবেন ২৮ দিন। কিন্তু এই সময়সীমা আরও ১৪ দিন বাড়ানো হতে পারে। ছবি: জেরুজালেম পোস্ট।

অবশেষে নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পাচ্ছেন ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকোট। শনিবার (৭ নভেম্বর) দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ এ ঘোষণা দিয়েছেন।


বিজ্ঞাপন


রোববার (৮ নভেম্বর), জেরুজালেমে, প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট দেওয়া হবে।

প্রেসিডেন্ট হারজগের এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশটিতে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়েও ইসরায়েলের আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।

গত সপ্তাহের নির্বাচনে, ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা বিরোধী জোটের প্রার্থী আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন কোনো জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার পর আইজেনকোট ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট আরও সর্বোচ্চ ১৪ দিন সময় বাড়াতে পারবেন।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠন করতে না পারলে, প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে প্রেসিডেন্টকে জানালে কিংবা তার নেতৃত্বাধীন সরকার পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে জয়ী হতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট।

এক্ষেত্রে তিন দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অন্য কোনো পার্লামেন্ট সদস্যকে (এমকে) সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন, নাকি পার্লামেন্টের স্পিকারকে জানাবেন যে সরকার গঠনের আর কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না।

প্রথম দফায় আইজেনকোট ব্যর্থ হলে, দ্বিতীয় একজন পার্লামেন্ট সদস্যকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে পারবেন প্রেসিডেন্ট। দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তি সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। তবে এক্ষেত্রে সময় বাড়ানোর কোনো সুযোগ থাকবে না।

দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলে, অথবা প্রেসিডেন্ট নতুন কাউকে দায়িত্ব না দিলে শুরু হবে ২১ দিনের একটি বিশেষ সময়সীমা। এ সময় অন্তত ৬১ জন পার্লামেন্ট সদস্য যৌথভাবে কোনো নির্দিষ্ট আইনপ্রণেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে অনুরোধ জানাতে পারবেন।

এভাবে মনোনীত ব্যক্তি সরকার গঠনের জন্য ১৪ দিন সময় পাবেন।

তবে, আইন অনুযায়ী, সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ভেঙে দেওয়া হবে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট। এরপর দেশটিতে নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সমস্যা হচ্ছে, নতুন সরকার পার্লামেন্টের আস্থা অর্জন করে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিদায়ী সরকারই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

ইতিহাসের বলছে, ইসরায়েলে কোনো রাজনৈতিক দলই কখনো এককভাবে পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। সেজন্য, দেশটিতে এ পর্যন্ত গঠিত সব সরকারই ছিল জোট সরকার।

নেসেট নির্বাচনে, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী লিকুদ পার্টি-তাদের কট্টর ডানপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল ইহুদি মিত্ররা ৫৩টি আসন পেয়েছে। মোট ১২০ আসনের মধ্যে আইজেনকোটের মধ্যপন্থী ইয়াশার পার্টি এবং তার জোটের অন্য তিনটি ইহুদি বিরোধী দল পেয়েছে ৪৮টি আসন।

এছাড়া আরব নেতৃত্বাধীন দুটি জোট: ইউনাইটেড আরব লিস্ট ও জয়েন্ট লিস্ট, সব মিলিয়ে পেয়েছে রেকর্ড ১৯টি আসন।

প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নবনির্বাচিত নেসেট সদস্যদের প্রতিনিধিদলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর আইজেনকট প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পক্ষে ৬৭টি সুপারিশ পেয়েছেন। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু পেয়েছেন ৪৬টি।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...