বিজ্ঞাপন
উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার। এতে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশ-এর প্রকল্প উপদেষ্টা আলী নিয়ামত।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিসিআইসি'র এমডি (অতিরিক্ত সচিব) ফখরুল আলম। এ সময় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভাষাবিদ প্রফেসর ড. প্রতিভা রাণী কর্মকার এবং ড. পলাশ কর্মকারসহ সোসাইটির অন্যান্য কর্মকর্তা ও শুভানুধ্যায়ীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার বলেন, ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। ফলে দেশের সব মানুষের কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। উন্নত বিশ্বের মতো কমিউনিটিভিত্তিক ও পরিবারকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশে আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কমবে এবং দেশের অর্থ দেশেই থাকবে।
তিনি বলেন, ক্যান্সার একসময় অত্যন্ত আতঙ্কের রোগ হিসেবে বিবেচিত হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে বর্তমানে অনেক ধরনের ক্যান্সারের চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে। তবে ক্যান্সারের চিকিৎসা এখনো অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় দেশের প্রান্তিক ও অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য তা বহন করা কঠিন। অনেক ক্ষেত্রে একটি পরিবারের কোনো সদস্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পুরো পরিবার আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এ বাস্তবতায় ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশ অসচ্ছল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্যান্সার রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসহায়তা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও মানবিক উদ্যোগ।
ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে উপাচার্য মহোদয় বলেন, ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সুষম ও পরিমিত খাবার গ্রহণ, অস্বাস্থ্যকর ও অতিরিক্ত ফাস্টফুড পরিহার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং রোগের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। পাশাপাশি ক্যান্সারের ঝুঁকি নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং, সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক টিকাদান সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
তিনি বিশেষভাবে নারীদের জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, অসচেতনতা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক নারী সময়মতো চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারেন না। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটির উদ্যোগে প্রতিটি গ্রাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া গেলে ক্যান্সার শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞান নয়, কৃষি, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের জ্ঞান ও উদ্ভাবন স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই বিজ্ঞানমনস্ক, সচেতন ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ও ক্যান্সার সচেতনতা বৃদ্ধিতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় সহযোগিতা করতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ত করে গ্রাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজন করা যেতে পারে। পাশাপাশি ক্যান্সার রোগীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সমস্যা নিয়ে যৌথ গবেষণারও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের গবেষণা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের সঙ্গে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
প্রতিবেদক- মোঃ হাফিজ, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...