বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকাল থেকেই শুরু হয় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, নতুন ফসল উৎসর্গ, গারো ভাষার গান পরিবেশনা ও দর্শকপ্রিয় ‘জুম নাচ’। নারী-পুরুষেরা উৎসবস্থলে আসেন নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাকে; কারও মাথায় কারুকাজ করা খুতুপে পাগড়ি, কারও মাথায় মোরগের পালকের দমি অলংকার। মাঠের চারপাশে গড়ে ওঠে অস্থায়ী দোকান, যেখানে বিক্রি হয় হাতে বানানো গারো পোশাক, অলংকার ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবার।
উৎসবের উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ পিসিসি সংস্থার পরিচালক সিলভেস্টার গমেজ। সভাপতিত্ব করেন বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির পরিচালক কবি পরাগ রিছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের কথাসাহিত্যিক উপসচিব মঈনুল হাসান, বাংলা একাডেমির পরিচালক ও কবি ড. সরকার আমিন এবং কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাইযুল ওয়াসীমা নাহাত।
এ ছাড়াও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত কালচারাল অফিসার মালা আরেং, ট্রাইব্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মুকুট স্নাল, সুজিত মানখিন, বুলবুল মানখিন ও কপোতি ঘাগ্রা প্রমুখ।
ঐতিহ্য, কৃতজ্ঞতা, নৃত্য ও আচারসমৃদ্ধ গারোদের এই ওয়ানগালা মহোৎসব আবারও তুলে ধরেছে—সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের বিষয় নয়; বরং মানুষের পরিচয়, ইতিহাস ও অস্তিত্বের গর্বিত প্রকাশ। পুরো আয়োজনকে কেন্দ্র করে উৎসবস্থলজুড়ে সৃষ্টি হয়েছিল বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক আবহ, যা সমতলের মানুষের কাছেও এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে রইল।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...