বিজ্ঞাপন
নিহত কথা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা ইউনিয়নের ঘানাপাড়া গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের মেয়ে। সে গোপালগঞ্জ থিয়েটারের একজন প্রতিভাবান শিল্পী ছিলেন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) ভোর রাত ৩টার দিকে শহরের কমিশনার রোডের নিজ বাসা থেকে ওই কিশোরী গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে স্বামী প্রিন্স ও পরিবারের সদস্যরা।
মাত্র চার মাস আগে প্রিন্সের সঙ্গে পারিবারিকভাবে কথার বিয়ে হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে মনোমালিন্য ও পারিবারিক অশান্তি বিরাজ করছিল। ফলে কিশোরী বধূর আকস্মিক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকাজুড়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ?
এলাকাবাসী ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেশীর দাবি, কথার বড় বোনের স্বামী (দুলাভাই) মিঠুনের সঙ্গে কথার মেলামেশা নিয়ে এলাকায় কানাঘুষা ছিল। এই সম্পর্ক নিয়ে প্রিন্স ও তার পরিবারের সন্দেহ দানা বাঁধে, যা পারিবারিক অশান্তির কারণ হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
স্বামী প্রিন্স দাবি করেন, রাতে বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এসময় তিনি স্ত্রীকে চড়-থাপ্পড় মারেন। তার ভাষ্য, “অভিমানে সে আত্মহত্যা করেছে।”
অন্যদিকে, নিহতের দুলাভাই মিঠুন জানান, প্রিন্স নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রায়ই বাসায় ফিরে স্ত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করত। কথার মৃত্যুর পেছনে সে কারণই দায়ী হতে পারে বলে তার ধারণা।
পুলিশ বলছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও অস্পষ্ট। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তকারী এক কর্মকর্তা বলেন, “এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। আমরা সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছি। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং স্বামীসহ স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিদ্যালয়ের সহপাঠীরাও হতবাক কিশোরীর এমন অকাল মৃত্যুতে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও প্রাথমিক তদন্ত শেষেই মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...