বিজ্ঞাপন
রোববার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী আশ্রয়ণ কেন্দ্রের নিজ ঘর থেকে ওই শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী পুলিশ ইনচার্জ পরিদর্শক মোল্লা আফজাল হোসেন জানান, আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শুভ আত্মহত্যা করেছেন। এক থেকে দুই দিন আগে এ ঘটনা ঘটতে পারে। শীতের কারণে মরদেহে পচন ধরেনি, তবে মরদেহ শক্ত হয়ে গিয়েছিল। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ আড়াই শ’ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত শুভ বৈরাগী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী গ্রামের প্রয়াত সুখলাল বৈরাগী ও শেফালী বৈরাগী দম্পতির ছেলে। শৈশবেই বাবা-মাকে হারানো শুভ বোন-ভগ্নিপতি ও মামাবাড়িতে বড় হন। তিন বছর আগে বৌলতলী আশ্রয়ণ প্রকল্পে তিনি একটি ঘর বরাদ্দ পান। গ্রামে এলে কখনো মামাবাড়ি, কখনো ওই আশ্রয়ণ কেন্দ্রের ঘরেই থাকতেন।
শুভ বৈরাগীর ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, কোটালীপাড়া উপজেলার কাফুলাবাড়ি গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে তার দুই বছরের বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে প্রেমিকার জন্মদিন উপলক্ষে তাকে সরাসরি শুভেচ্ছা জানাতে তার বাড়িতে যান শুভ। সেখানে তরুণীর পরিবারের সদস্যরা তাকে আটকে রেখে মারধর করে রক্তাক্ত করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
শুভ তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, সম্পর্কের কথা স্বীকার করার পরও তরুণীর জ্যাঠা ও পরিবারের সদস্যরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক একটি ‘মিথ্যা ভিডিও’ ধারণ করেন। ওই ভিডিওতে তাকে দিয়ে স্বীকার করানো হয় যে, তিনি ওই বাড়িতে চুরি করতে গিয়েছিলেন। পরে এই চুরির অপবাদ এলাকায় ছড়িয়ে দিয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে শুভ লেখেন, “তারা সত্যকে আড়াল করে আমাকে মিথ্যা চোর অপবাদ দিয়ে সবার কাছে দোষী করেছে। এতে আমার মান-সম্মান নষ্ট হয়েছে। আমি কারো সামনে মুখ দেখাতে পারবো না। তারা আমাকে জানে মারার চেয়েও বেশি মেরে ফেলেছে।”
আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রেমিকার পরিবার সম্পর্কটি মেনে নেয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, টাকা আজ নেই, কাল হতে পারতো; কিন্তু এই অপমান নিয়ে বেঁচে থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয়। নিজের মৃত্যুর জন্য তিনি প্রেমিকা, তার বাবা, কাকা ও জ্যাঠুকে সরাসরি দায়ী করে গেছেন।
এদিকে শুভর অকাল মৃত্যুতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আশ্রয়ণ কেন্দ্রের প্রতিবেশী অনিল বিশ্বাস জানান, ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর শুভ তার বাইসাইকেল নিয়ে কাফুলাবাড়ির দিকে যেতে চান। রাতে সাইকেল চালিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কার কথা জানালে শুভ বলেন, কোনো দুর্ঘটনা হবে না। এরপর সাইকেল নিয়ে চলে যান। পরদিন সকাল পর্যন্ত শুভ ফেরেননি। বিকেলে বাড়ি ফিরে তিনি দেখেন, বারান্দায় সাইকেলে তালা দেওয়া এবং চাবি জানালা দিয়ে তার ঘরের ভেতরে ছুড়ে রাখা। তিনি ভেবেছিলেন, শুভ বরিশালে চলে গেছেন। পরে রোববার শুভর মরদেহ উদ্ধারের খবর পান।
এই মেধাবী শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...