Logo Logo

কর্মীর মায়ায় দেশ পেরিয়ে মালদ্বীপ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া


Splash Image

কর্মীর প্রতি ভালোবাসা আর মানবিক টান যে সীমান্ত মানে না, তারই উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি করলেন মালদ্বীপের একটি মোটরসাইকেল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ সিরাজ। প্রবাসী কর্মী মোহাম্মদ হোসেন মিয়ার পারিবারিক আনন্দে শরিক হতে আজ সকালে ফ্লাইটে করে মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে এসেছেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


গতকাল বৃহস্পতিবার(৯ জানুয়ারি) সকালে ঢাকায় পৌঁছান মালদ্বীপে কর্মরত মোহাম্মদ হোসেন মিয়া। তার সঙ্গে বাংলাদেশে আসেন প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ সিরাজ, সিরাজের দুই ছেলে মোঃ সিমরান ও মোঃ সামরান, ব্যক্তিগত সহকারী মোঃ মুসা এবং একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ঝিনাইদহের বাসিন্দা ।

মোহাম্মদ হোসেন মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের ফকিরদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ইউনুস আলীর ছেলে। প্রায় ১২ বছর ধরে মালদ্বীপে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন হোসেন মিয়া। সম্প্রতি তার বিয়ে সম্পন্ন হওয়ায় পরিবারের আনন্দে ভাগ নিতে দেশে ফেরেন তিনি। আর সেই আনন্দকে আরও বিশেষ করে তুলতেই কর্মীর মায়ার টানে বাংলাদেশে ছুটে আসেন তার মালিক।

মালিক মোঃ সিরাজ বলেন, হোসেন আমার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বস্ত একজন কর্মী। সে আমাদের পরিবারেরই একজন সদস্য। সে দীর্ঘদিন আমাদের সঙ্গে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে। তার আমন্ত্রণে আমরা কয়েকজন বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নিই।

মালিকের সঙ্গে আসা তার দুই ছেলে জানান,

আমরা বাংলাদেশকে পছন্দ করি। অনেক সুন্দর। এখানে আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে।

প্রবাসী মোহাম্মদ হোসেন মিয়া বলেন, আমি ১২ বছর ধরে মালদ্বীপে থাকি। প্রথম ৭বছর অন্য কোম্পানিতে কাজ করেছি। পরে ৫ বছর ধরে বর্তমান মালিক সিরাজের মটরসাইকেল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সেলসম্যান কর্মরত আছি। আমার কোম্পানীর মালিক আমাদের বাসায় আসছেন বেড়াতে। আমি অনেক খুশি।

এদিকে গ্রামের মানুষও এই ঘটনায় আবেগাপ্লুত। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন,বিদেশি মালিক হয়েও কর্মীর বোনের বিয়েতে উপস্থিত হতে গ্রামে আসা সত্যিই বিরল ঘটনা। এতে প্রমাণ হয়, ভালোবাসা আর মানবিকতা থাকলে সম্পর্ক শুধু চাকরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।

চাতলপাড় ইউনিয়নের ফকিরদিয়া গ্রামে মালিক ও তার সফরসঙ্গীদের আগমনে সৃষ্টি হয় এক ভিন্ন আবহ। গ্রামের মানুষ মোটরসাইকেল শোডাউনের মাধ্যমে অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। প্রবাসী কর্মীর পরিবারের চোখে-মুখে ছিল আনন্দ আর গর্বের ছাপ। কর্মী-মালিক সম্পর্কের এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত, যা প্রমাণ করে বিশ্বাস, ভালোবাসা আর সম্মান থাকলে দূরত্ব কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...