বিজ্ঞাপন
এই সমস্যা নিরসন ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের দাবিতে আজ রবিবার সকাল ১০টা থেকে জেলা শহরের কাউতলী গোল চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্তরের মানুষ। আন্দোলনে অংশ নেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, শ্রমজীবী মানুষ ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের চাপ না থাকায় রান্না করা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে। ভোররাতে বা গভীর রাতে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস এলে তখনই রান্না শেষ করতে হয়। এতে নারী, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচে সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুধু গৃহস্থালি নয়, গ্যাস সংকটের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জেলার শিল্পকারখানা ও ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ছেন, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অনেকে হোটেল ও রেস্তোরাঁ নির্ধারিত সময়ে খাবার সরবরাহ করতে পারছে না।
অবস্থান কর্মসূচির আয়োজকরা অভিযোগ করেছেন, বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কার্যকর সমাধান আসেনি। তাদের দাবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস অন্য জেলার চাহিদা মেটাতে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কার্যক্রম নিয়েও তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অধীনে গ্যাস সরবরাহ পুনর্বহাল করার দাবি জানিয়েছেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন কুমার দে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মোহাম্মদ ইশতিয়াক ভূঁইয়া। তারা গ্রাহকদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মঙ্গলবার বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, জেলা প্রশাসন ও গ্রাহক প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে গ্যাস সংকটের কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়।
প্রশাসনের আশ্বাসের পর আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। তবে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্যাস সংকট সমাধান না হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী আরও কঠোর আন্দোলনের পথে যাবে।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন- শেখ হাফিজ, এবিএম মুছা, মো. সাবের হোসেন, আতিকুর রহমান আপেল, মামুন আরিফ, শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী, মো. সোহেল, রানা ভূঁইয়া, ইসহাক আল মামুন, ইমরান, আহমেদ রনি, শাহাদাত হোসেন, শিব্বির আহমেদ ভূঁইয়া, নাছির আহমেদ, জালাল আহমেদ, এমরান আহমেদ রনি, পলি আক্তারসহ আরও অনেকে।
জেলার মানুষের একটাই দাবি: “গ্যাস চাই, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস চাই।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...