সাবেক ইউপি সদস্য জিতু মিয়া। ফাইল ছবি
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়নের ধরমন্ডল গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত জিতু মিয়া ওই গ্রামের মৃত আলাই মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধরমন্ডল গ্রামের সাবেক মেম্বার জিতু মিয়ার গোষ্ঠীর সঙ্গে একই গ্রামের প্রয়াত মিয়াজ উদ্দিন মেম্বারের গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই আধিপত্য বিস্তার ও পুরনো শত্রুতাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আদালতে একাধিক মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকেলে পূর্ববিরোধের জেরে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকা। সংঘর্ষ চলাকালীন গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান জিতু মিয়া।
খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সংঘাতের পুনরাবৃত্তি রোধে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সংঘর্ষে আহত অন্তত ৩০ জনকে উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পার্শ্ববর্তী জেলা হবিগঞ্জ ও মাধবপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
ধরমন্ডল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুরনো শত্রুতার জের ধরেই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুল ইসলাম জানান, “বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...