Logo Logo

ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের সংকটে এক্স-মডেল স্কুল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন ‘জেমসা’র কার্যক্রম ।। সময় এসেছে পুনর্গঠন ও নতুন নেতৃত্বের।


Splash Image

১৫০ বছরের পুরনো ও গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী এস. এম. মডেল গভঃ হাইস্কুল। এটি কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং এ অঞ্চলের ইতিহাস, চেতনা ও সামাজিক বিবর্তনের এক জীবন্ত দলিল। এ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ বহু কীর্তিমান।


বিজ্ঞাপন


এই ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করতে ২০১৩ সালে আত্মপ্রকাশ করেছিল ‘গোপালগঞ্জ এক্স-মডেল স্কুল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ বা সংক্ষেপে ‘জেমসা’ (GEMSSA)। তবে একসময়ের প্রাণবন্ত এই সংগঠনটি আজ বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও একপেশে নেতৃত্বের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে।

১৮৭৫ সালে মথুরানাথ বসুর হাত ধরে যে পাঠশালার সূচনা হয়েছিল, তা ১৯৫০ সালে সীতানাথ একাডেমির সাথে একীভূত হয়ে আজকের এস. এম. মডেল গভঃ হাইস্কুল হিসেবে পূর্ণতা পায়। ১৯৭০ সালে জাতীয়করণের পর বিদ্যালয়টি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে অত্র অঞ্চলে খ্যাতি অর্জন করে।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, সীতানাথ ও মথুরানাথ বসুর সমাধি বর্তমানে সংরক্ষণের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে; যেখানে ‘জেমসা’র নৈতিক দায়িত্ব ছিল বিদ্যালয়ের এই দুই প্রধান প্রতিষ্ঠাতার সমাধি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা। কিন্তু ঐতিহ্যের প্রতি এই চরম অবহেলা প্রাক্তন ছাত্রদের ব্যথিত করেছে।

বর্তমানে সাধারণ সদস্যদের মাঝে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা। অভিযোগ উঠেছে, সিনিয়র অভিজ্ঞ সংগঠকদের উপেক্ষা করে জুনিয়র অনভিজ্ঞ-চাটুকারদের নিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি আজ্ঞাবহ ‘পকেট কমিটি’, যেখানে স্বার্থান্বেষী একটি গোষ্ঠীর কর্তৃত্বই প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংগঠনের যাবতীয় কর্মকাণ্ড গোপালগঞ্জ কেন্দ্রিক হওয়ার কথা থাকলেও গুটি কয়েক ব্যক্তির সুবিধার জন্য সকল কর্মকাণ্ডের আয়োজন ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। যার কারণে সাধারণ সদস্যদের অংশগ্রহণ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যা তাদের মূল শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকায় সংগঠনের কার্যক্রম এখন পুরোপুরি স্থবির।

এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ সদস্যরা অবিলম্বে ‘জেমসা’র এই অচলাবস্থার নিরসন চান। তাদের দাবি, একটি স্বচ্ছ, গণতান্ত্রিক ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় নতুন নেতৃত্ব গঠন করা হোক।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মতে, “এই বিদ্যালয় আমাদের আবেগ-অনুভূতির জায়গা। আর ‘জেমসা’ আমাদের প্রাণের সংগঠন। এর সুনাম ও সংগঠনের মর্যাদা এভাবে ভূলুণ্ঠিত হতে দেওয়া যায় না।” তারা বিশ্বাস করেন, একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ জেমসা কেবল মিলনমেলার কেন্দ্র নয়, বরং শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, দুর্যোগকালীন সহায়তা ও গোপালগঞ্জের সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

নিষ্ক্রিয়তা কাটিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জেমসা আবার আলোর পথে ফিরবে—এই প্রত্যাশায় বুক বাঁধছেন দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা হাজারো সাবেক মডেল ছাত্র। ঐতিহ্যের আলোয় গড়ে ওঠা এই সংগঠনটি তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে, এটাই এখন সাধারণ সদস্যদের প্রাণের দাবি।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...