বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্টেশন চত্বরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংগঠনের সদস্যরা জানান, গতকাল সন্ধ্যায় তিতাস কমিউটার ট্রেনের ১২টি অগ্রিম টিকিটসহ স্বপন মিয়া নামে এক কালোবাজারিকে পুলিশের সহায়তায় আটক করেন সংগঠনের সদস্য তাসানুজ্জামান তাজিমসহ অন্যরা। আটকের কিছুক্ষণ পরই কালোবাজারি চক্রের একদল সদস্য লাঠিসোঁটা নিয়ে স্টেশন চত্বরে এসে সংগঠনের সদস্যদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
এ সময় সাবের হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকে লক্ষ্য করে নৃশংস হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত সাবেরের মাথায় ১৪টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। হামলায় আহত অপর দুই সদস্য প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বহিষ্কৃত এনসিপি নেত্রী বিপাশার ইন্ধনেই এই হামলা সংঘটিত হয়েছে। আটককৃত স্বপন মিয়া বিপাশার আত্মীয় হওয়ায় তিনি এই হামলা উসকে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সংগঠনের সদস্যরা আরও দাবি করেন, টিকিট কালোবাজারি ভুট্টোর নেতৃত্বে এই সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে।
অভিযুক্ত বিপাশা ঘটনার সময় পুলিশ ফাঁড়িতে ছিলেন না বলে দাবি করলেও সিসিটিভি ফুটেজে তাঁর উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে পুনরায় প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং আর কোনো মন্তব্য করেননি।
রেলওয়ে স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, টিকিটসহ একজনকে আটক করার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আসামির আত্মীয়স্বজনরা ফাঁড়িতে এসে তর্কাতর্কি করে এবং পরবর্তীতে স্টেশনে মারামারির ঘটনা ঘটে।
তবে সংগঠনের সদস্য তাসানুজ্জামান তাজিম পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পুলিশের সামনেই আমাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি পুলিশ আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারবে না জানিয়ে ফাঁড়ির পেছন দিক দিয়ে চলে যেতে বলে। পুরো ঘটনায় পুলিশ কেবল নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।”
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ মানুষ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র নিন্দার ঝড় বইছে। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে ‘ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া’।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...