বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, এই গণভোটের রায় থেকে এটি পরিষ্কার যে, বাংলাদেশের মানুষের বৃহদাংশ আর পুরনো রাষ্ট্রব্যবস্থায় ফিরে যেতে বা স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে চান না। তাঁরা রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও সংস্কার চান।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদকে জয়যুক্ত করেছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের গণভোটে মোট ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা মোট ভোটারের প্রায় ৬০.৮৪ শতাংশ। এর মধ্যে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, যা কাস্ট হওয়া ভোটের ৬৮.০৬ শতাংশ। অন্যদিকে ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি, যা প্রদত্ত ভোটের প্রায় ৩১ শতাংশ।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় গণভোটে ভোটারদের উপস্থিতি এক শতাংশ বেশি ছিল, যা অত্যন্ত ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ।
বিফ্রিংয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজ আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা গণভোটের আগে জাতির উদ্দেশে বলেছিলেন—একটি জাতীয় রূপান্তর কখনোই একক সিদ্ধান্ত বা একক শাসনের মাধ্যমে সম্ভব নয়। পরিবর্তনের চূড়ান্ত বৈধতা আসে জনগণের সম্মতি থেকেই। সেই লক্ষ্যেই জনগণকে সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দিতে এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল। জনগণ প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এই গণভোটের রায়কে কেবল সংখ্যার হিসেবে দেখলেই হবে না। এটি ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন এবং লড়াই করেছেন, তাঁদের অর্পিত দায়িত্বের প্রতি জনগণের এক বিশাল স্বীকৃতি। এই জনরায়ের মাধ্যমেই সংস্কারের পথে রাষ্ট্র পরিচালনার চূড়ান্ত দিশা নির্ধারিত হলো।
ব্রিফিংয়ের সময় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...