বিজ্ঞাপন
রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে ড. মোশাররফের পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির আরেক প্রভাবশালী সদস্য এবং দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দেখার পক্ষে মত দিয়েছেন দলের বড় একটি অংশ।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পরই এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে।
রাষ্ট্রপতি পদের এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের বার্তাকে কেন্দ্র করে। গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন। যদিও সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত, তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ব্যক্তিগত অপমানের কথা উল্লেখ করে তিনি নতুন সরকার গঠনের পরই সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ৭৯ বছর বয়সী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবার কুমিল্লা-১ আসন থেকে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক ইতিপূর্বে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে জনমত গঠনেও তার বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল। ইতিপূর্বে দলীয় জনসভায় তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী এবং ড. মোশাররফকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়ে একটি আগাম ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে, নজরুল ইসলাম খান সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বিশেষ করে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় কেন্দ্রীয় বক্তা হিসেবে তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তবে দলের নীতিনির্ধারকরা তাকে নীতিনির্ধারণী বা উপদেষ্টা পর্যায়ে রাখার বিষয়ে বেশি আগ্রহী বলে জানা গেছে।
বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মন্ত্রিসভা গঠনের পর আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে। আপাতত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জনসাধারণের নজর কালকের শপথ অনুষ্ঠানের দিকে, যেখান থেকে দেশের পরবর্তী অভিভাবক কে হচ্ছেন তার স্পষ্ট সংকেত পাওয়া যাবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...