Logo Logo

প্রায় দুই মাস বিদ্যুৎহীন নালিতাবাড়ী উপজেলা মডেল মসজিদ, ভোগান্তিতে মুসল্লিরা


Splash Image

নালিতাবাড়ী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রায় দুই মাস ধরে মোমবাতি জ্বালিয়ে অন্ধকারে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লীরা। সরকারি ভাবে নেই কোন স্থানীয় সমাধান, ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজারও মুসল্লিরা।


বিজ্ঞাপন


রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের রানীগাঁও এলাকায় অবস্থিত মডেল মসজিদে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ৩৫ মাসের প্রায় ৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় গত ৬ জানুয়ারি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)।

তথ্য মতে , তৎকালীন সরকার ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি মাসে মসজিদটির উদ্বোধন হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও বিল পরিশোধ না হওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বিদ্যুৎ বিভাগ।

উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, মসজিদে একজন পেশ ইমাম, একজন মুয়াজ্জিন ও দুজন খাদেম কর্মরত আছেন। তাদের সম্মানী ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ বহন করলেও বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় মেটাতে হয় স্থানীয় দান থেকে।

আধুনিক এই মডেল মসজিদে রয়েছে একাধিক নামাজের কক্ষ, ঝাড়বাতি, শতাধিক লাইট, ফ্যান ও এসি। নারী-পুরুষ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক অজুখানা, আধুনিক টয়লেট, অটিজম কর্নার, লাইব্রেরি, হজ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ইমাম ট্রেনিং সুবিধা, গবেষণা কার্যক্রম ও আবাসন ব্যবস্থাও রয়েছে।

মসজিদের দাতা সদস্য পান্না বলেন, “প্রায় দেড় মাস ধরে বিদ্যুৎ নেই। যুব সমাজ প্রিপেইড মিটার আনার চেষ্টা করছে। তৃতীয় রমজান পর্যন্ত অন্ধকারেই নামাজ পড়তে হচ্ছে।”

নালিতাবাড়ী পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী আব্দুল মোমিন বলেন, এটি এসটি লাইন হওয়ায় ব্যবহার না করলেও মাসে ১৫ হাজার টাকার বেশি ডিমান্ড চার্জ আসে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আলোচনা হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ঊর্ধ্বতন নির্দেশনা অনুযায়ী ভবিষ্যতে বিল পরিশোধে ব্যর্থ মডেল মসজিদগুলোতে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কথা রয়েছে।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, দেড় মাস পর তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি বলেন, “বকেয়া প্রায় সাত লাখ টাকার বেশি বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে জেলা পর্যায়ে আলোচনা চলছে। বড় অঙ্কের বকেয়া হওয়ায় উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, মসজিদ নির্মাণের পর থেকে কোনো সরকারি বরাদ্দে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের ব্যবস্থা নেই। স্থানীয়ভাবে বিল দেওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। মসজিদে এসি ও লাইটের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিলও বেশি আসে।

শেরপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক এস এম মোহাইমোনুল ইসলাম জানান, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি মাসে ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিল সরকার বহন করে, বাকিটা স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু এই মসজিদে মাসিক বিল ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা আসে। রমজান উপলক্ষে আংশিক টাকা নিয়ে সংযোগ চালু রাখার অনুরোধ করা হলেও বিদ্যুৎ বিভাগ রাজি হয়নি।

রমজান মাসে এমন পরিস্থিতিতে মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। দ্রুত বকেয়া নিষ্পত্তি ও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...