Logo Logo

মোবাইল কোর্ট ঘিরে উত্তেজনা

নালিতাবাড়ীতে ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট


Splash Image

পবিত্র রমজান উপলক্ষে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে জনস্বার্থ রক্ষায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানে অবৈধ স্থাপনা ও রাস্তার জায়গা দখল করে রাখা মালামাল জব্দ করা হলে, ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।


বিজ্ঞাপন


সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌর শহরের উত্তর বাজার এলাকায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান এবং থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান নালিতাবাড়ী শহরের প্রধান সড়কের দুইপাশ দখল করে রাখা ব্যবসায়ীদের মালামাল সরিয়ে যানবাহন চলাল এবং মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করে প্রচারণা করেন। পরে সোমবার বিকেলে শহরের মধ্যবাজার ও কালিবাড়ি এলাকায় প্রধান সড়কে দুই পাশে রাখা ব্যবসায়ীদের মালামাল উচ্ছেদে ভ্রাম্যাণ আদালত পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। এসময় রাস্তা দখল করে রাখা মালামাল জব্দ করতে গেলে ব্যবসায়ীরা বাঁধা দেন।

একপর্যায়ে সাবেক পৌর মেয়র ও বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্যরা এসে ব্যবসায়ীদের প্রশমিত করার চেষ্টা করেন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করতে বলেন। এসময় উত্তেজিত ব্যবসায়ীরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপর এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতে আসা স্বেচ্ছাসেবীদের উপর চড়াও হন। ফলে ভ্রাম্যমাণ আদালত স্থগিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

ম্যাজিস্ট্রেট চলে যাওয়ার পর ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা অভিযোগ করেন, অনেকের দোকানের সীমানার ভেতরে থাকা মালামালও জব্দ করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা নিজেদের নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই পণ্য রেখেছিলেন। কিন্তু প্রশাসন তা অগ্রাহ্য করে মালামাল গাড়িতে তুলে নেয়। তাদের অনুরোধ সত্ত্বেও কিছু পণ্য ফেরত দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

অন্যদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান জানান, জনস্বার্থে যানজট নিরসন ও বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

তিনি আরো বলেন, “রাস্তার ওপর অবৈধভাবে রাখা মালামাল জব্দ করা হচ্ছিল। এ সময় সাবেক মেয়র আনোয়ার হোসেন দলবল নিয়ে এসে অভিযানের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং জানতে চান এমপি’র অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে আমি ঘটনাস্থল ত্যাগ করি।”

এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র বিএনপির নেতা ভিপি আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি একটি ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। তার অভিযোগ, মোবাইল কোর্টের নামে দোকানের ভেতরের মালামালও জব্দ করা হচ্ছিল।

তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানের সময় কিছু বহিরাগত ব্যক্তি মালামাল উঠাতে সহায়তা করছিলেন, যারা প্রশাসনের নিয়মিত স্টাফ নন।

এছাড়া, মাইকিং করে আগে বিষয়টি অবহিত না করেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করায় কিছু গরিব ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক থাকলেও বিষয়টি নিয়ে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...