বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বেরীবাধের বাহিরে সমুদ্র সৈকত এলাকায় সীকুইন হোটেল ও শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির সংলগ্ন স্থানে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের দোকানগুলোতে। এতে ২টি খাবার হোটেল, ২টি কাপড়ের দোকান, ১টি মুদি মনোহরী দোকান, ১টি ঝিনুকের দোকান, ১টি জেনারেটরের দোকান ও ১টি চায়ের দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
খবর পেয়ে কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আবুল হোসেন বলেন, “খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।”
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন সালমা বেগম (হোটেল তিন কন্যা), নাসির হাওলাদার (বিসমিল্লাহ হোটেল), শহীদ সিকদার (ঝিনুকের দোকান), বেল্লাল হোসেন (কাপড়ের দোকান), মিলন (মুদি মনোহরী দোকান), মিলন (জেনারেটরের দোকান) ও একটি চায়ের দোকানের মালিক।
আগুনের সূত্রপাত নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ দাবি করছেন, শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের একটি কক্ষে রাখা লেপ-তোষক ও বালিশের পাশে জ্বালানো কয়েল থেকে আগুন লাগে। আবার কেউ বলছেন, কোনো খাবার হোটেল থেকে আগুনের উৎপত্তি হতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে অধিকাংশ দোকান তালাবদ্ধ ছিল। একটি ঘরে লোক থাকলেও তারা নিরাপদে বের হতে সক্ষম হন। আগুন লাগার পর স্থানীয়রা ও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও মালামাল সরাতে সহায়তা করেন।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, পর্যটননির্ভর কুয়াকাটায় এখনো কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নেই। কলাপাড়া থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে আসতে সময় লেগে যায়। তাই কুয়াকাটায় স্থায়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
রমজানের প্রাক্কালে এমন ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে তারা দিশেহারা। ইতোমধ্যে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...