বিজ্ঞাপন
ঘটনাসূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ চরপাতা এলাকার বাসিন্দা আ. রউফ তালুকদারের তিন মাসের শিশু কন্যা জিন্নাতকে টিকা দেওয়ার কথা বলে মালেকের হাট বাজারের টিকাকেন্দ্রে নিয়ে যান তার স্ত্রী সুমাইয়া। কিছুক্ষণ পর তিনি দাবি করেন, দুই অজ্ঞাত নারী তাকে ২০০ টাকার নোট দিলে তিনি অস্বাভাবিক হয়ে পড়েন এবং ওই নারীরা তার কোল থেকে শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যায়। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পুরো ভোলাজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
সামাজিক মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ও ভোলা সদর থানার ওসির তত্ত্বাবধানে অভিযান শুরু হয়। ভোলা সদর থানা, ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একাধিক টিম আশপাশ এলাকায় চিরুনি অভিযান ও চেকপোস্ট স্থাপন করে। ইলিশা লঞ্চঘাটসহ বিভিন্ন ঘাটে তল্লাশি জোরদার করা হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ হেফাজতে সুমাইয়ার বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, তার খালা আমেনা বেগমের মেয়ের সন্তান না থাকায় শিশুটিকে দত্তক দিতে রাজি হয়েছিলেন। বিষয়টি আড়াল করতেই ‘অপহরণের নাটক’ সাজান তিনি।
পুলিশ জানতে পারে, আমেনা বেগম একই দিন দুপুর ২টায় ‘দোয়েল পাখি-১০’ লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। লঞ্চকর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাকে শনাক্ত করা হয়। পরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদস্যরা লঞ্চে উঠে আমেনা বেগম ও শিশুটিকে হেফাজতে নেন। বিশেষ টিম ঢাকায় গিয়ে তাদের জিম্মায় নিয়ে ভোলায় ফিরিয়ে আনে।
পরবর্তীতে ভোলা সদর মডেল থানা-য় জিডি মূলে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে শিশুটিকে অভিভাবকের জিম্মায় প্রদান করা হয়।
নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশু জিন্নাতকে উদ্ধার ও রহস্য উন্মোচন করায় স্থানীয়রা ভোলা জেলা পুলিশের প্রতি আস্থা ও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনা দত্তক, শিশু সুরক্ষা ও ভুয়া অপহরণ সংক্রান্ত আইনগত সচেতনতার বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...