বিজ্ঞাপন
সংলাপে বক্তারা অনলাইনে একটি বিশেষ অভিযোগ সেল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে ভুক্তভোগীরা তাদের ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রেখে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।
বুধবার (৪ মার্চ) সকাল দশটায় রাজবাড়ী শহরের পান্না চত্বর সংলগ্ন কনভেনশন সেন্টারে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়।
সংলাপে উঠে আসে যে, বিশ্বে প্রতি ৩ জনের মধ্যে ২ জন নারী জীবনে অন্তত একবার অনলাইন সহিংসতার শিকার হন। বাংলাদেশে এই হার আশঙ্কাজনকভাবে বেশি—প্রায় ৮৯% নারী ও কন্যা শিশু এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন।
তথ্য অনুযায়ী, ৯ থেকে ১৪ বছরের কন্যা শিশুরা প্রথম টিএফজিবিভির শিকার হয় এবং ১৮ থেকে ৩০ বছরের তরুণীরা সবচেয়ে বেশি এই সহিংসতার সম্মুখীন হন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ৭৫% ভুক্তভোগীই সামাজিক জড়তা বা ভয়ে পরিবারকে বিষয়টি জানান না এবং কোনো আইনি ব্যবস্থা নেন না।
সংলাপে পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন (PCSW)-এর ২০২৪ সালের রিপোর্ট তুলে ধরা হয়। সেখানে দেখা যায়, ৬০ হাজারের বেশি অভিযোগের মধ্যে ৪১% ডক্সিং, ১৮% ফেসবুক আইডি হ্যাক, ১৭% ব্ল্যাকমেইল, ৯% ইমপার্সোনেশন এবং ৮% সাইবার বুলিং সংক্রান্ত। বক্তারা বলেন, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যাকে অনলাইনে অনিরাপদ রেখে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই সংলাপে সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের প্রতিটি অংশীজনকে এই সহিংসতা প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে পরিবারের অভিভাবকদের সচেতনতা এক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি।
বজলুল রহমান ও একুশে টেলিভিশনের রাজবাড়ী প্রতিনিধি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল হক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. তবিবুর রহমান, জেলা তথ্য অফিসার রেখা ইসলাম এবং রাজবাড়ী শিক্ষক সমিতির সভাপতি গাজী আহসান হাবিবসহ আরও অনেকে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...