বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, কোটালীপাড়া-রাজৈর সড়ক সংস্কারে ৪১ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৩ টাকা বরাদ্দ ছিল। চুক্তিতে ১৫ হাজার ৬৭৫ বর্গমিটারে ১২ এমএম সিলকোট এবং ১৪.৯৩ কাম বিটুমিন কার্পেটিং করার কথা থাকলেও বাস্তবে করা হয়েছে মাত্র ৯ এমএম সিলকোট ও ১২.৯০ কাম কার্পেটিং। একইভাবে ৩৬ লাখ ২ হাজার ৫৭০ টাকা ব্যয়ের গেড়াখোলা-ব্যাসপুর সড়কে ১২৩.২২০ কাম বিটুমিন কার্পেটিংয়ের স্থলে মাত্র ১০০.১২০ কাম কাজ সম্পন্ন করে বরাদ্দকৃত অর্থ তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ৪৯ লাখ ৭৭ হাজার ৪৮৩ টাকা ব্যয়ের ভাটিয়াপাড়া-মাঝকান্দি সড়কেও ১৪০.৫৩৩ কাম ওয়্যারিং কোর্সের বিপরীতে মাত্র ১০০ কামের কাছাকাছি কাজ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোপালগঞ্জ সড়ক জোনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এই ব্যাপক অনিয়মের পেছনে রয়েছে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বরের একটি চাঞ্চল্যকর ঘুষ কেলেঙ্কারি। ওইদিন পুলিশ চেকপোস্টে ১০ লাখ টাকাসহ একটি গাড়ি জব্দ করা হয়, যা শরিয়তপুর সড়ক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন মোশাররফ হোসেন গোপালগঞ্জ সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে ঘুষ দেওয়ার জন্য নিয়ে আসছিলেন। ওই খামগুলোতে স্পষ্টাক্ষরে ‘সড়ক জোন’ ও ‘সড়ক সার্কেল’ লেখা ছিল।
সূত্রের দাবি, দুদকের দায়ের করা ওই মামলার আইনি খরচ মেটাতে এবং নিজেদের আড়াল করতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা সড়ক সংস্কারের বাজেট থেকে অন্তত ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। মামলা থেকে বাঁচতে উচ্চ আদালতের খরচ ও তদবিরের জন্য তড়িঘড়ি করে এই তিনটি সড়কের কাজে দৈর্ঘ্য ও পুরুত্বে ফাঁকি দিয়ে বিল তোলা হয়েছে। মূলত ঘুষের টাকা উদ্ধার ও মামলা সংক্রান্ত খরচ জোগাতেই ঠিকাদারদের সাথে যোগসাজশ করে এই অনিয়ম করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ সাদেকুল ইসলাম স্বীকার করেছেন যে, সড়ক সংস্কারে অনিয়ম হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, অনিয়মের খবর পাওয়ার পর ঠিকাদারদের দিয়ে পুনরায় কাজ করিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সাথে তিনি জানান, ৫০ লাখ টাকার নিচের কাজগুলো সড়ক বিভাগ নিজস্ব ক্ষমতায় বাস্তবায়ন করে থাকে এবং এটি তদারকির দায়িত্ব মূলত সড়ক সার্কেলের। দুদকের মামলার সাথে এই কাজের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও তিনি জোর দাবি করেন।
দুদক গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রামপ্রসাদ মন্ডল জানিয়েছেন, সড়ক বিভাগের এই দুর্নীতির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্তাধীন রয়েছে। নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় এবং প্রকৃত অপরাধীদের যেন আইনের আওতায় আনা যায়, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...