বিজ্ঞাপন
কিন্তু বাস্তবতা অনেক সময় আমাদের হতাশ করে। পৃথিবীর নানা প্রান্তে একশ্রেণীর স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সংঘাত, হানাহানি ও সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে। ক্ষমতার লোভে মানুষ মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে, আর তার নির্মম পরিণতি ভোগ করছে নিরীহ সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে শিশুরা।
রমজানের শেষে যে শিশুটি নতুন পোশাক পরে ঈদের মাঠে ছুটে বেড়াবে, আনন্দে মেতে উঠবে—সে শিশুটিরই অনেক সময় বাস্তবতা হয়ে ওঠে ধ্বংসস্তূপ, ধুলাবালি আর বারুদের গন্ধে ভরা এক পৃথিবী। যুদ্ধবিধ্বস্ত জনপদে ঈদের আনন্দ হারিয়ে যায় কান্না, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার ভিড়ে। শৈশবের হাসি সেখানে প্রায়শই থেমে যায় অস্ত্রের শব্দে।
ইসলাম একটি শাশ্বত ও মানবিক ধর্ম। এই ধর্মে সংকীর্ণতার কোনো স্থান নেই; বরং শান্তি, সহনশীলতা এবং ন্যায়বিচারের শিক্ষা এতে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত। অথচ মানুষ অনেক সময় নিজের স্বার্থের কাছে মানবিক মূল্যবোধকে বিসর্জন দেয়। পৃথিবীকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিযোগিতায় মানুষ মানুষকেই জিম্মি করে ফেলছে—যা সভ্যতার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, কোনো সাম্রাজ্য বা সভ্যতাই চিরস্থায়ী নয়। সময়ের নিয়মে শক্তিশালী সাম্রাজ্যও পতনের মুখে পড়েছে। অত্যাচার, সংঘাত ও অন্যায়ের ওপর দাঁড়ানো কোনো শক্তিই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। প্রকৃতির নিয়মই হলো—অন্যায় একসময় নিজের পরিণতি ডেকে আনে।
এই বাস্তবতায় রমজানের শিক্ষা আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়। আত্মসংযমের এই মাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং শান্তিই মানুষের প্রকৃত শক্তি। তাই রমজানের এই পবিত্র সময়ে বিশ্বমানবতার প্রতি আমাদের আহ্বান হোক স্পষ্ট—সংঘাত নয়, যুদ্ধ নয়; আমরা চাই শান্তি।
সংযমের এই শিক্ষা যদি ব্যক্তি জীবন থেকে বৈষয়িক জীবনে বিস্তার লাভ করে, তবে মানবসভ্যতা আরও মানবিক ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। রমজানের সংযম তাই কেবল ব্যক্তিগত সাধনা নয়—এটি হোক বৈষয়িক সংযমেরও ধারক ও বাহক।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...