Logo Logo

শেরপুরে নাগরিকতা প্রকল্পের কার্যক্রম ও ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত


Splash Image

শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী, নকলা, শেরপুর সদর ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় নাগরিকতা প্রকল্পের আওতায় ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় জনগণকে সামাজিক ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে এ সভাগুলোর আয়োজন করা হয়।


বিজ্ঞাপন


সুইজারল্যান্ড ও কানাডা সরকার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায়, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এর বাস্তবায়নে এবং ইন্ডিজিনাস পিপলস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস (আইপিডিএস) এর আয়োজনে এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে—প্রকল্প ওরিয়েন্টেশন, সামাজিক নিরীক্ষা প্রশিক্ষণ, সামাজিক নিরীক্ষা, ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন (এফজিডি), সামাজিক জরিপ, কেআইআই এবং নাগরিক দলের ত্রৈমাসিক সভা। এসব কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন, স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণে সহায়তা করা। এর মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-৫ (জেন্ডার সমতা) এবং অভীষ্ট-১৬ (শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান) অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।

ত্রৈমাসিক সভাগুলো ২৩ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ঝিনাইগাতী, শেরপুর সদর, নালিতাবাড়ী ও নকলা উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর জয়ন্ত লরেন্স রাকসাম সঞ্চালনা করেন এবং বিগত ত্রৈমাসিক সভার সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি তুলে ধরেন। পাশাপাশি জেলা প্রশাসক ও দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য গণশুনানিতে উত্থাপনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করা হয়, যা স্বাস্থ্য ও প্রসূতি সেবার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সভায় সিটিজেন গ্রুপের সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় পরিচালিত সামাজিক নিরীক্ষা ও ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। এছাড়াও ২০২৬ সালের নির্বাচন, নাগরিকদের ভোটদান অভিজ্ঞতা এবং নির্বাচন-পরবর্তী স্থানীয় সরকার কাঠামোর পরিবর্তন ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও মতামত প্রদান করেন। সভায় সিজি সদস্য ও স্বাস্থ্যকর্মী কামরুন নাহার জানান, প্রকল্পের আওতায় ৫০ জন মহিলাকে প্রসূতি সেবা দেওয়া হয়েছে। এ সেবার মধ্যে ছিল ওজন মাপা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও টিকা প্রদান। পাশাপাশি মায়েদের জন্য শিশু ও মাতৃত্বকালীন ভাতার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

অন্যদিকে সামাজিক নিরীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পূজা বিশ্বাস ও লাবণী স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে বলেন, সরকারি হাসপাতালে অনেক সময় প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যায় না। তৃণমূল পর্যায়ের এসব মতামত ও অভিজ্ঞতা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়াই নাগরিকতা কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। সভায় স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা ও সেগুলোর সমাধানে নাগরিকদের করণীয় বিষয়েও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। এছাড়া নতুন সরকারের প্রতি বিভিন্ন প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।

নাগরিকতা কার্যক্রমের মাধ্যমে তৃণমূলের জনগণ, স্থানীয় সরকার, প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...