বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজধানীর একটি থানায় কর্মরত এএসআই আসাদুজ্জামান ফকির ওরফে আসালত, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আহাদ আলী ফকির, সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত শাহিদ আলী ফকির (সাধু) এবং তাদের দুলাভাই স্কুল শিক্ষক আজিজুল কাজী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা ভাবে হয়রানি করে আসছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্তরা প্রায়ই ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে গ্রামবাসীদের ভয়ভীতি দেখান এবং তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেন। এমনকি সেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা অন্যের জমি দখলের চেষ্টা করছেন এবং জমিতে লাগানো গাছপালা উপড়ে ফেলছেন। বোনের ভাগের জমিতে বোনের ছেলেরা ধান চাষ করলে তাদের ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এছাড়া তাদের সৎ বড় ভাইকে লাঠিপেটা করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী নিলখী গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষিকা স্বপ্না আক্তার জানান, তার পিতার কাছ থেকে পাওয়া একটি জমি অভিযুক্তদের বাড়ির পেছনে অবস্থিত। সেখানে কোনো ফসল আবাদ করতে গেলেই অভিযুক্তরা রামদা নিয়ে তেড়ে আসেন। তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের বাড়ির পেছন দিয়ে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয় এবং মাঝেমধ্যে রামদা নিয়ে ধাওয়া করা হয়। এছাড়া তার জমিতে থাকা নারিকেল, শিরিশ ও সুপারি গাছসহ কয়েকটি ফলদ গাছ রাতের আঁধারে উপড়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক ভুক্তভোগী সামুরা মোল্লা জানান, আসাদুজ্জামান ফকির ওরফে আসালত পেশায় এএসআই। তিনি প্রায়ই নিজেকে প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে গ্রামবাসীকে হুমকি দেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ছোটখাটো বিষয় নিয়ে রামদা নিয়ে তাড়া করেন এবং পরে নিজেই ৯৯৯-এ ফোন করে নিরীহ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ করেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে পরে তা তুলে নিতে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ তার।
অভিযুক্তদের বোনের ছেলে ফাহিম হাসান অভিযোগ করেন, তার মা নানাবাড়ি থেকে ভাগে পাওয়া জমিতে চাষাবাদ করার পর তার তিন মামা রামদা নিয়ে তাড়া করে ধান কেটে নিয়ে গেছেন।
এছাড়া একই ধরনের হয়রানির অভিযোগ করেছেন নিলখী গ্রামের মোহন মোল্লা, লালন ফকির, মোর্শেদুল আলম ও লুৎফর রহমান।
ভুক্তভোগী আরাফাত মোল্লা জানান, গত ৫ মার্চ দুপুরে রাস্তায় আড্ডা দেওয়ার অভিযোগ তুলে আসাদুজ্জামান ফকির ও তার ভাইয়েরা রামদা নিয়ে তাকে তাড়া করেন। পরে তার বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। এ ঘটনায় ৭ মার্চ তিনি গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. আনিসুর রহমান বলেন, প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযুক্ত আহাদ আলী ফকিরের সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে সাংবাদিকরা তার বাড়িতে গেলে তিনি তাদের দেখে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...