বিজ্ঞাপন
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৫ মে থেকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বিশ্বনাথপুর মাঠে মাসব্যাপী বৈশাখী মেলা শুরু হয়। মেলায় বিনোদনের জন্য সার্কাস, নাগরদোলা, যাত্রা ও শিশুদের নানা ধরণের রাইড থাকলেও এর আড়ালে মূল আকর্ষণ হিসেবে চালানো হচ্ছে লটারি বা র্যাফেল ড্র। কাশিয়ানীসহ পার্শ্ববর্তী আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মুকসুদপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দৈনিক প্রায় দেড় শতাধিক ইজিবাইক ও ভ্যানে মাইকিং করে এই লটারির টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই বিক্রির ধুম।
লটারি বিক্রেতারা জানান, দেড় শতাধিক ভ্যান ও ইজিবাইকের প্রতিটিতে একটি করে ড্রাম রয়েছে। প্রতিটি গাড়ি থেকে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১ হাজার পিস টিকিট বিক্রি হয়ে থাকে। সেই হিসেবে দৈনিক প্রায় ২০ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে। মাত্র ২০ টাকা মূল্যের এই লটারিতে পুরস্কার হিসেবে মোটরসাইকেল, রঙিন টেলিভিশন, ইজিবাইক, সোনার গয়না ও নগদ টাকাসহ একাধিক লোভনীয় পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। এই লটারি বিক্রি করে প্রতিদিন একটি চক্র ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে কতিপয় ব্যক্তি রাতারাতি লাভবান হলেও নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
অভিযোগ রয়েছে, পুরস্কারের আশায় প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার টিকিট কিনে সর্বশান্ত হচ্ছেন খেটে খাওয়া দিনমজুরেরা। অনেক ভ্যানচালক সারাদিনের উপার্জিত আয় দিয়ে লটারির টিকেট কিনছেন, যার ফলে পরিবারগুলোতে তীব্র অশান্তি দেখা দিয়েছে। এই লটারি ড্র স্থানীয় কেবল টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ফলে রাত ১০টা বাজলেই লটারির ফলাফল দেখার জন্য শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ টিভি পর্দার সামনে ভিড় জমায়, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাটিগ্রামের বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন, আমি পুরস্কারের আশায় প্রতিদিন ১০০টি করে লটারির টিকিট কিনি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো পুরস্কার পাইনি। মেলা যে কয়দিন থাকবে, আমি লটারি কিনেই যাব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আয়োজক কমিটির একজন সদস্য জানান, একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের মদদে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এই লটারি বিক্রি করা হচ্ছে। যে কারণে এটি সম্পূর্ণ অবৈধ হলেও কেউ কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
তবে মেলার আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক খান কামরুজ্জামান লটারি বিক্রি বৈধ দাবি করে বলেন, লটারি বিক্রির অনুমতি আছে। ডিসি স্যার এই অনুমতি দিয়েছেন। লটারি নামে তো এটি চলে না, এটি মূলত র্যাফেল ড্র। এর পক্ষে হাইকোর্টেরও অনুমতি আছে।
এই বিষয়ে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহিন মিয়া বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তাদেরকে কেবল বৈশাখী মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে লটারি বিক্রির বৈধতা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি এটি বৈধ বা অবৈধ কোনোটিই বলতে রাজি হননি এবং কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
অন্যদিকে, এই মেলায় লটারির বাণিজ্য প্রসঙ্গে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান কোনো ধরনের মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...