তেল না পেয়ে খালি বোতল হাতে বিলাইছড়ি উপজেলার কেরনছড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও বোরো ধান চাষী তপন চাকমা।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে বিলাইছড়ি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ডিজেল ও অকটেনের অভাবে অধিকাংশ দোকানে বিক্রি বন্ধ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে রাঙ্গামাটি ও কাপ্তাই থেকে তেলের সরবরাহ না আসায় তারা বিপাকে পড়েছেন। জ্বালানি সংকটের কারণে আজও বিলাইছড়ি থেকে রাঙ্গামাটিগামী নির্ধারিত যাত্রীবাহী লঞ্চটি ছেড়ে যেতে পারেনি। এছাড়া বিলাইছড়ি-কাপ্তাই নৌ-রুটে চলাচলকারী বোটগুলোও তেলের অভাবে শিডিউল বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
সংকটের সুযোগে স্থানীয় কিছু অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে জ্বালানি তেল মজুদ করে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ চাষিরা জানান, ১১০ টাকার ডিজেল গোপনে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিচিত ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে, ১৩০ টাকার অকটেন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিয়েছেন, ফলে দূরপাল্লার যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
উপজেলার কেরনছড়ি গ্রামের বোরো চাষি তপন চাকমা আক্ষেপ করে বলেন, "পুরো বাজার ঘুরেও সেচের জন্য দুই লিটার ডিজেল সংগ্রহ করতে পারিনি। অনেক দোকানদার বেশি দামের আশায় তেল মজুদ করে রাখছেন।" কুতুবদিয়া গ্রামের এক কৃষক বাধ্য হয়ে লিটার প্রতি ১৫০ টাকা দরে ৬ লিটার ডিজেল কিনেছেন বলে জানান। জমি শুকিয়ে যাওয়ার ভয়ে নিরুপায় হয়েই তারা এই বাড়তি খরচ বহন করছেন।
বাজারের রনজিৎ স্টোর, দেবাশীষ স্টোর ও টিসা স্টোরসহ একাধিক ব্যবসায়ী প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে জানান, কাপ্তাই ও রাঙ্গামাটি থেকে তেল না আসায় তারা নিরুপায়।
তবে বিলাইছড়ি বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রনি জানান, রাঙ্গামাটিতে নতুন করে তেল পৌঁছেছে এবং দ্রুতই এই সংকট কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, কেউ অবৈধ মজুদ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসনাত জাহান খান বলেন, "জ্বালানি তেল অন্যায়ভাবে মজুদ রাখার কোনো সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রমাণ পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...