বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে জেলা সদরের রহিমানপুর ইউনিয়নে অবস্থিত 'আদুরী গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ' নামক কারখানায় গিয়ে দেখা যায় এক ভয়াবহ চিত্র। সেখানে একদিকে নোংরা পরিবেশে লাচ্ছা সেমাই তৈরি করে দ্রুত প্যাকেটজাত করা হচ্ছে, অন্যদিকে সাদা সেমাই শুকানোর জন্য খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখা হয়েছে। উন্মুক্ত স্থানে রাখা এসব সেমাইয়ের ওপর ধুলোবালি পড়ার পাশাপাশি পোকামাকড় ছুটোছুটি করতে দেখা গেছে। এমনকি কারখানায় কর্মরত কারিগরদের মধ্যেও কোনো স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহারের বালাই নেই।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রশাসনের অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের প্রমাণ পাওয়ায় 'আদুরী ফুড'কে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, জরিমানার পরও কারখানা কর্তৃপক্ষ নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আগের মতোই উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে এসব কারখানা সিলগালা করার দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে আদুরী গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের ম্যানেজার ওসমান আলী পলাশ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, "সামান্য ত্রুটি থাকতে পারে, আমরা ভালো পরিবেশে উৎপাদনের চেষ্টা করছি।"
জেলা নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাহমুদুল কবির জানান, আদুরী ফুডকে ইতিপূর্বে জরিমানা করা হয়েছে এবং তাদের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি রাখা হচ্ছে। একইভাবে চলতে থাকলে কারখানা সিলগালা করার সুপারিশ করা হবে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম এই প্রসঙ্গে বলেন, "মানুষ যেন নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য পায় সে লক্ষ্যে প্রতিটি কারখানায় আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো অনিয়ম পেলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
জেলা ব্যবসায়ী সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় অন্তত ২০টি সেমাই কারখানা রয়েছে, যেখানে দৈনিক গড়ে ১০ মনেরও বেশি সেমাই উৎপাদিত হচ্ছে।
সাধারণ ভোক্তাদের দাবি, ঈদ সামনে রেখে প্রতিটি কারখানায় নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...