বিজ্ঞাপন
অভিযোগ রয়েছে, সামরুল হক দেশের বিভিন্ন জেলার সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংগ্রহ করে নিজের নামে প্রকাশ করেন এবং নিজেকে জামালপুর জেলার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন। এমনকি বকশীগঞ্জের প্রকৃত সাংবাদিকদের প্রকাশিত সংবাদ ও ফেসবুক পোস্ট হুবহু কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়ার একাধিক ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে “বিস্তারিত আসছে”, “হট নিউজ আসছে” বা “অনুসন্ধান চলছে” এমন চাঞ্চল্যকর শিরোনাম ব্যবহার করেন। এসব পোস্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও কৌতূহল সৃষ্টি করে পরবর্তী সময়ে বিভিন্নভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সামরুল হকের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে নামের আগে ‘সাংবাদিক’ পদবি ব্যবহার করা হলেও কোনো স্বীকৃত জাতীয় বা স্থানীয় গণমাধ্যমের বৈধ পরিচয়পত্র বা প্রেস কার্ড তার নেই। বকশীগঞ্জের সাংবাদিক সমাজের মতে, এ ধরনের ভুয়া সাংবাদিকদের অপতৎপরতার কারণে প্রকৃত সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ সংবাদকর্মীদের প্রতি আস্থাহীন হয়ে পড়ছে, যা সাংবাদিকতার জন্য অশনিসংকেত।
এই পরিস্থিতিতে বকশীগঞ্জের সচেতন মহল ও পেশাদার সাংবাদিকরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা; এই মহৎ পেশার আড়ালে প্রতারণা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কেউ সাংবাদিক পরিচয় দিলে তার আইডি কার্ড ও প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বকশীগঞ্জের সাংবাদিকরা আশা করছেন, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এ ধরনের অপেশাদার ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে এবং সাংবাদিকতার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...