বিজ্ঞাপন
বুধবার (১১ মার্চ) তারাবির নামাজের সময় সৈকতের ঝাউবন এলাকায় এই জঘন্য ঘটনা ঘটে। আগুনে নৌকা, জাল ও ইঞ্জিন ভস্মীভূত হয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুয়াকাটা সৈকতের পূর্ব দিকে ঝাউবন এলাকায় প্রতিদিনের মতো মাছ শিকার শেষে বুধবার বিকেলে নৌকা ও জাল রেখে বাড়িতে চলে যান জেলে কালাম ও তাঁর সঙ্গীরা। তারাবির নামাজ চলাকালীন হঠাৎ নৌকায় আগুনের শিখা দেখতে পান অন্য জেলেরা। পরে তারা গিয়ে দেখেন নৌকাটি প্রায় পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
নৌকার মালিক মহিবুল মল্লিক জানান, রাতে তিনি যখন সমুদ্রে জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন, তখন হঠাৎ নৌকায় আগুন জ্বলতে দেখেন। তাৎক্ষণিকভাবে অন্যান্য জেলেদের সহায়তায় পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও নৌকা, জাল ও ইঞ্জিন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে একটি পেট্রোলের খালি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে এটি পরিকল্পিত নাশকতামূলক কাজ।
মহিবুল আরও জানান, তিনি নৌকাটি কালামের কাছে মাসিক ভাড়ায় দিয়েছিলেন। এই নৌকায় ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ শিকার করে কালাম তাঁর জীবিকা নির্বাহ করতেন। রমজানের শেষ দিকে এসে আকস্মিক এই ক্ষতিতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত জেলেরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুয়াকাটা সৈকতে মাছ ধরা নিয়ে জেলেদের মধ্যে মাঝেমধ্যে দ্বন্দ্ব হলেও এভাবে নৌকা পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম বিস্ময় ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
কুয়াকাটা সৈকত বাইতুল আরোজ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম কারী মো. নজরুল ইসলাম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "কারও সাথে শত্রুতা থাকতে পারে, কিন্তু এভাবে সম্পদ পুড়িয়ে দিয়ে পরিবারকে নিঃস্ব করা অত্যন্ত জঘন্য কাজ।"
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নৌকাটি পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর আশ্রাফ আলী সিকদার ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানা গেছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...