বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে উপজেলার কাঠামদরবস্ত গ্রামে গিয়ে জানা যায়, ১৯৮৭ সালে ওই গ্রামে প্রায় ৩ একর জমির ওপর ‘সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সম্প্রতি)’ নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটির কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ থাকলেও তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি তদারকির জন্য ‘বাস্তব’ নামের অপর একটি এনজিওর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বর্তমানে ওই জমির প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গায় ‘সম্প্রীতি বিদ্যানিকেতন’ স্কুলটি পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৬২ জন শিক্ষার্থী বিনা বেতনে অধ্যয়ন করছে। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৯ জন শিক্ষক ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী আজাদ খান বিদ্যালয়ের প্রায় ৭ শতাংশ জমি দখল করে সেখানে ইটের প্রাচীর নির্মাণ করছেন। এই দেয়াল নির্মাণের ফলে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে আলো-বাতাস প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদান প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে সেই আইনি প্রক্রিয়াকে তোয়াক্কা না করেই ক্ষমতার দাপটে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সম্প্রতি) সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ড. কামাল হোসেন বলেন, "জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। সেই মামলা উপেক্ষা করে ঈদের ছুটির সুযোগে দখলকারীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অফিস খোলার পর আমরা এই বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
তবে অভিযুক্ত আজাদ খান জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, "আমি কোনো প্রতিষ্ঠানের জমি দখল করিনি। আমি আমার নিজস্ব জমিতেই কাজ করছি এবং আমার কাছে বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছিল এবং আগামী শুক্রবার (২৭ মার্চ) উভয় পক্ষ বসার কথা রয়েছে।"
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা এবং বিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী। তারা অবিলম্বে এই অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...