বিজ্ঞাপন
শহরবাসীর অভিযোগ ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ‘আভিজাত্যের’ লেবাসে সাধারণ মানুষের জন্য এই ক্লাবের দরজা ছিল কার্যত বন্ধ। সদস্যপদ কেবল প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, ক্লাবের ভেতরে নিয়মিত বসতো মদ্যপান ও জুয়ার আসর। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সরাসরি ছত্রছায়ায় থাকা ক্লাবটি মূলত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ দুর্গে পরিণত হয়েছিল। ভয়ে সাধারণ মানুষ এসবের প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ার পর পাল্টে যায় গোপালগঞ্জ ক্লাবের চিত্রও। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কোনো প্রকার নির্বাচন ছাড়াই অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্লাবটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। ৫ আগস্টের পর জনরোষের ভয়ে ক্লাবের তৎকালীন শীর্ষ নেতারা গা ঢাকা দেন। ফলে বর্তমানে ক্লাবটি সম্পূর্ণ অভিভাবকহীন ও নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ক্লাবের কোটি টাকার সম্পদ ও অবকাঠামো কুক্ষিগত করতে মাঠে নেমেছে নতুন একটি গোষ্ঠী। কোনো প্রকার নির্বাচন বা আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করেই তারা ক্লাবটি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। নতুন এই সম্ভাব্য দখলদারদের তৎপরতায় শহরবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নবগঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। এই জনগুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার প্রেক্ষিতে গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
শহরের সচেতন নাগরিকরা প্রত্যাশা করছেন যে, গোপালগঞ্জ-০২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, গরীবের ডাক্তার হিসেবে পরিচিত ডা. কে এম বাবর গোপালগঞ্জ ক্লাবের সকল অনিয়ম, দুর্নীতি এবং মদ ও জুয়ার আসর বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। জেলা শহরের সকল মানুষের জন্য ক্লাবটি যাতে একটি সুস্থ ও মার্জিত বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে, সে লক্ষ্যে তিনি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে গোপালগঞ্জবাসী আশাবাদী।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...