বিজ্ঞাপন
হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এবারের শাওয়াল মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ পড়েছে যথাক্রমে ২, ৩ ও ৪ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার)। অর্থাৎ আগামীকাল ২ এপ্রিল থেকে টানা তিন দিন আইয়ামে বীজের রোজা রাখা যাবে। যারা ইতিমধ্যে শাওয়ালের ৬ রোজার কিছু রেখেছেন বা এখনো শুরু করেননি, তাদের জন্য এই তিন দিন রোজা রাখার মাধ্যমে বিশেষ সওয়াব অর্জনের চমৎকার সুযোগ রয়েছে।
কোরআন ও হাদিসের আলোকে এই রোজাগুলোর ফজিলত অপরিসীম। পবিত্র কোরআনের ঘোষণা অনুযায়ী, আল্লাহ তায়ালা যেকোনো নেক আমলের প্রতিদান অন্তত দশগুণ বাড়িয়ে দেন। সেই হিসেবে প্রতি মাসের এই তিন দিন রোজা রাখলে তা ত্রিশ দিন বা সারা মাস রোজা রাখার সমান সওয়াব এনে দেয়। হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে তিনটি বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন, যা আমি মৃত্যু পর্যন্ত ছাড়ব না। প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখা, চাশতের দুই রাকাত নামাজ পড়া এবং ঘুমানোর আগে বিতর নামাজ আদায় করা।’ (বুখারি ও মুসলিম)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এই রোজাগুলোর ব্যাপারে এতটাই যত্নশীল ছিলেন যে, তিনি কখনো এগুলো ছাড়তেন না। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) সফর এবং বাড়িতে অবস্থান—কোনো অবস্থাতেই আইয়ামে বীজের রোজা ছাড়তেন না। এছাড়াও শাওয়াল মাসে এই রোজা রাখার মাধ্যমে দ্বিগুণ সওয়াব অর্জনের সুযোগ রয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।’ (মুসলিম)।
ইসলামি স্কলারদের মতে, কেউ যদি শাওয়াল মাসের এই আইয়ামে বীজের তিন দিন রোজা রাখেন এবং মাসের অন্য যেকোনো দিন আরও তিনটি রোজা মিলিয়ে মোট ৬টি পূর্ণ করেন, তবে তিনি একইসঙ্গে ‘শাওয়ালের ৬ রোজা’ এবং ‘আইয়ামে বীজের রোজা’—উভয় সুন্নাতের বিপুল সওয়াব লাভ করতে পারবেন। নিয়মিত আইয়ামে বীজের রোজা পালনের মাধ্যমে অন্তরের কলুষতা দূর হয় এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সহজ হয়। তাই মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনে শাওয়াল মাসের এই বরকতময় দিনগুলোতে রোজা পালন করা প্রতিটি মুমিনের জন্য একান্ত কাম্য।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...