বিজ্ঞাপন
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে কাশিয়ানী সাংবাদিক ফোরাম কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মোসাম্মৎ লাভলী বেগম লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
তিনি জানান, উপজেলার দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল খায়ের ও তার স্ত্রী নাছরিন বেগমসহ আরও দুই-তিনজন মিলে তার ছেলে ফয়সাল (২৪)-কে পর্তুগাল পাঠানোর কথা বলে মোট ১৮ লাখ টাকা দাবি করেন। তাদের কথায় বিশ্বাস করে প্রথমে ৫ লাখ টাকা এবং পরে ধার চাওয়ার প্রেক্ষিতে আরও ৩ লাখ টাকা দেন তিনি। বাকি টাকা ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর সময় দেওয়ার কথা ছিল।
লাভলী বেগম বলেন, “আমার ছেলে ফয়সালের পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র তারা নিয়ে নেয়। কিন্তু দীর্ঘ ১৬ মাস পেরিয়ে গেলেও তাকে বিদেশে পাঠানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। প্রায় ১১ মাস আগে আবুল খায়ের ও নাছরিন বেগম তাকে সঙ্গে নিয়ে কাশিয়ানীর একটি স্বর্ণের দোকান থেকে তাদের গচ্ছিত স্বর্ণালংকার উত্তোলন করেন। পরে আত্মীয় তপনের পরামর্শে ওই স্বর্ণালংকার একটি বেবি শপের ব্যবসায়ী রিপনের কাছে গচ্ছিত রাখা হয়।
ভুক্তভোগী জানান, দীর্ঘদিনেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তিনি টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন অজুহাত দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো তার বিরুদ্ধে স্বর্ণালংকার চুরির মিথ্যা অভিযোগ তোলে এবং হুমকি-ধমকি দিতে থাকে।
“আমি ধারদেনা করে এত টাকা দিয়েছি, এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছি,”—সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন লাভলী বেগম।
এ ঘটনায় তিনি মঙ্গলবার কাশিয়ানী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার ছেলে ফয়সাল (২৪), পুত্রবধূ আরিফা বেগম (২০)সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আবুল খায়ের ও তার স্ত্রী নাছরিন বেগমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কাশিয়ানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, “অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে লাভলী বেগম সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও সুবিচার দাবি করেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...