বিজ্ঞাপন
ঘটনার বিবরণে ভুক্তভোগী ও জায়গার মালিক জিল্লুর রহমান ভুট্টো অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে রিয়াজুল হক কমল ঝুটিগ্রাম দাখিল মাদ্রাসা থেকে তার ব্যক্তিগত জায়গার ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করেন। সে সময় বাধা দিলে তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় শরীকদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসার জন্য একটি মৌখিক 'এওয়াজবদল' চুক্তি হয়। শর্ত অনুযায়ী, জিল্লুর রহমান ঝুটিগ্রাম মৌজার ৫৪৫ নং খতিয়ানভুক্ত ৭৬০ দাগের প্রায় ১০০ হাত দীর্ঘ ও দুই হাত প্রশস্ত জায়গা রাস্তার জন্য ছেড়ে দেন। এর বিনিময়ে পশ্চিম পাশ থেকে রিয়াজুল হক কমলের সমপরিমাণ জায়গা ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাস্তা নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার দীর্ঘ সময় পার হলেও কমল তার প্রতিশ্রুত জায়গা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান।
ভুক্তভোগী জিল্লুর রহমান আরও দাবি করেন, তিনি বিএনপি কর্মী হওয়ায় বিগত সময়েও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কমলের হাতে বারবার লাঞ্ছিত ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। গত ২৭ মার্চ তিনি নিজের পৈতৃক জায়গা পুনরুদ্ধার করতে গেলে রিয়াজুল হক কমল ও তার সহযোগীরা তাকে বাধা দেন। এসময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এর আগে গত নভেম্বর মাসেও কমলের পরিবারের সদস্যরা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং এই ঘটনায় মুকসুদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির মোল্লা জানান, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। রিয়াজুল হক কমল তার আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও তিনি ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে শর্ত মেনে নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু কমল কোনো নিয়ম বা সামাজিক বৈঠকের সিদ্ধান্ত মানছেন না। মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মালিকানাধীন জমিতে কোনো স্থাপনা নির্মাণে এওয়াজবদলের শর্ত থাকলে তা উভয় পক্ষের মেনে চলা আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রিয়াজুল হক কমলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...