বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুকসুদপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: মোশারফ হোসেন মোল্লা একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের বিল সংক্রান্ত কাজে পিআইও আব্দুল জব্বারের দপ্তরে যান। অভিযোগ উঠেছে, ওই প্রকল্পের বিল পাসের জন্য পিআইও পূর্বেই মোশারফ হোসেনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। কিন্তু কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর চূড়ান্ত বিল পাসের সময় তিনি পুনরায় আরও টাকা দাবি করেন। ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন পুনরায় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পিআইও আব্দুল জব্বার মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে তিনি চেয়ার থেকে উঠে এসে প্রকাশ্যে প্রবীণ এই ইউপি সদস্যের শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। এ সময় পিআইও’র দপ্তরে থাকা অন্য লোকজন এগিয়ে এসে তাকে নিবৃত্ত করেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করেন।
ঘটনার পর আবেগাপ্লুত হয়ে মোশারফ হোসেন মোল্লা বলেন, আমি সঠিক নিয়মেই প্রকল্পের কাজ শেষ করেছি। বিল তোলার জন্য পিআইও সাহেবকে প্রথমে ২০ হাজার টাকা দিয়েছি। এরপর তিনি আবার টাকা চাইলে আমি না বলে দেই। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে বৃদ্ধ বয়সে এভাবে সরকারি অফিসে মারধরের শিকার হবো, তা কল্পনাও করিনি। জনসেবা করার জন্য আত্মনিয়োগ করে এ কেমন প্রতিদান পেলাম। আমি ইউএনও সাহেবের বিচারের অপেক্ষায় আছি।
এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, ইউপি সদস্যের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে আইনানুসারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত পিআইওর বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে একজন জনপ্রতিনিধিকে সরকারি অফিসে ডেকে নিয়ে মারধরের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল এবং অন্যান্য ইউপি সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা অভিযুক্ত কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...