বিজ্ঞাপন
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলায় নতুন আক্রান্ত ২০ জনের মধ্যে গোপালগঞ্জ সদরে ৫ জন, কোটালীপাড়ায় ৯ জন, কাশিয়ানীতে ২ জন, টুঙ্গিপাড়ায় ১ জন এবং মুকসুদপুর উপজেলায় ৩ জন রয়েছেন। বর্তমানে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৪৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মো. ফারুক জানান, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ১১৩ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৩০ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। প্রাপ্ত রিপোর্টে মুকসুদপুর উপজেলার দুই শিশুর শরীরে হামের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। সিভিল সার্জন ব্যক্তিগতভাবে আক্রান্ত শিশুদের খোঁজ নিয়েছেন এবং তারা বর্তমানে সুস্থ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। ইতোমধ্যে ৬৫ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
সিভিল সার্জন আরও বলেন, সংক্রমণ বাড়লেও পরিস্থিতি এখনো আশঙ্কাজনক নয়। অন্য জেলার তুলনায় গোপালগঞ্জে সংক্রমণের হার কম। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মুকসুদপুরের আক্রান্ত এলাকায় ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রম শুরু করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেষ বিশ্বাস জানান, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে হওয়ায় আক্রান্তদের জন্য ৪০ শয্যার পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আতঙ্কিত না হয়ে রোগীকে প্রচুর তরল ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।
হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স বিউটি হালদার জানান, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার রোগীর চাপ অনেক বেশি। আগে বছরে হাতেগোনা কয়েকজন রোগী এলেও এখন প্রতিদিন গড়ে ছয়-সাত জন রোগী আসছেন। করোনা পরবর্তী প্রজেক্টের অংশ হিসেবে তৈরি হওয়া এই ওয়ার্ডে সীমিত সরঞ্জাম ও জনবল নিয়ে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
সদরের ডালনিয়া গ্রাম থেকে আসা ১০ মাসের শিশু মোসায়েদ সিকদারের বাবা মামুন সিকদার জানান, প্রথমে প্রচণ্ড জ্বর ও পরে শরীরে লালচে র্যাস দেখা দিলে তিনি শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ১০ মাস বয়সে হামের টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই শিশুটি আক্রান্ত হয়েছে। অন্য আক্রান্তদের স্বজনরাও তীব্র জ্বর, সর্দি ও কাশির মাধ্যমে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার কথা জানিয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...