বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগীর পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মধ্য আলীপুর এলাকার মৃত আ. লতিফ খন্দকারের ছেলে মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম ওরফে সুজন (৫০) একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। জীবিকার তাগিদে তিনি বাড়ির সামনে কানাই মাতুব্বরের মোড়ে একটি ছোট চায়ের দোকান পরিচালনা করেন। ছেলের বিদেশ যাত্রার খরচ জোগাতে তিল তিল করে জমানো প্রায় ৫ লাখ টাকা তিনি ঘরের একটি ক্যাশবাক্সে রেখেছিলেন। গত ৫ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটে পুলিশের সোর্স রওনকের নেতৃত্বে একদল সাদা পোশাকধারী দুর্বৃত্ত পুলিশের পরিচয় দিয়ে সুজনের ঘরে ঢুকে তাণ্ডব চালায়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্বৃত্তরা প্রতিবন্ধী সুজনকে বেধড়ক মারধর করে ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে এবং প্লাস্টিকের ডিব্বায় রাখা ৫ লাখ টাকা লুট করে নেয়। এ সময় সুজন বাধা দিলে তাকে হাতকড়া পরিয়ে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় চেম্বার অব কমার্সের সদস্য সোহাগের মধ্যস্থতায় ও অপহরণকারীদের দাবি অনুযায়ী ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। পুরো ঘটনার কিছু অংশ স্থানীয় সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
বর্তমানে বাংলাদেশে পুলিশের সোর্সদের দৌরাত্ম্য ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। প্রায়শই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি ও অপহরণের মতো ঘটনায় এসব সোর্সদের নাম উঠে আসছে। ফরিদপুরের এই ঘটনাটি সেই অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থারই এক প্রতিচ্ছবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী পরিবারটি ইতিমধ্যে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিতভাবে বিচার প্রার্থনা করেছেন।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ঘটনার চার দিন পরও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীর আত্মীয়-স্বজন। তারা অবিলম্বে লুট হওয়া টাকা উদ্ধার এবং মূল হোতা রওনকসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...