বিজ্ঞাপন
চৈত্র সংক্রান্তি আজ বাঙালির এক সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। একসময় এই আচার পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে অধিক প্রচলিত থাকলেও, বর্তমানে তা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে। পাহাড়ি জনপদগুলোতে তিনদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
গ্রামীণ জনপদে চৈত্র সংক্রান্তির আবহ অত্যন্ত প্রাণবন্ত। ব্যবসায়ীরা পুরনো হিসাব চুকিয়ে ‘হালখাতা’ খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খাদ্য সংস্কৃতিতেও রয়েছে বৈচিত্র্য; এই দিনে আমিষ বর্জন করে ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ বা নিরামিষ আহারের প্রাচীন রীতি আজও সমাদৃত। এছাড়া তেতো খাবার ও ছাতু খাওয়ার প্রচলন স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি করেছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ব্রতপালন, শিবপূজা ও মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করছেন। গ্রামবাংলার মেলা, পুতুলনাচ, লোকসংগীত ও যাত্রাপালা এই উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় শহরের উদযাপনে কিছুটা পরিবর্তন এলেও শেকড়ের টান আজও অমলিন।
এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে দেশব্যাপী সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ লোকশিল্প প্রদর্শনী। ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর সম্মিলিত অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ এবং ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনায় ধামাইল নৃত্য উৎসবের মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে।
সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যে আরও রয়েছে জারিগান, পটগান, পুঁথিপাঠ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সংগীত ও নৃত্য। গ্রামীণ রূপকথার স্বাদ দিতে মঞ্চস্থ হবে লোকজ যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মকে বাঙালির সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়াস চালানো হচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...