বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে কাউয়ারচর ঝাউবন সূর্যোদয় পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় জোয়ারের পানির সঙ্গে প্রায় ৪০ কেজি ওজনের এই কচ্ছপটি তীরে আছড়ে পড়ে।
সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে সামুদ্রিক প্রাণীর এমন মৃত্যু উপকূলীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম অশনিসংকেত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জানা যায়, উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্য আঃ জলিল সৈকতে প্রথম মৃত কচ্ছপটি দেখতে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, সাগরে প্লাস্টিক দূষণ, অবৈধ জালের ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব সামুদ্রিক প্রাণীদের এই অকাল মৃত্যুর পেছনে প্রধান কারণ হতে পারে।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের উপ-যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু আহমেদ বলেন, "বারবার এভাবে সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।"
মহিপুর বন বিভাগ রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কচ্ছপটির মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
পরিবেশবিদরা মনে করছেন, সামুদ্রিক প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত প্রয়োজন। যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে কুয়াকাটা সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।
পরবর্তীতে ডলফিন রক্ষা কমিটি, বন বিভাগ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা যৌথ প্রচেষ্টায় মৃত কচ্ছপটিকে সৈকতের বালুচরে মাটি চাপা দিয়ে সৎকার সম্পন্ন করেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...