বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার রেলওয়ে জেলা পুলিশ লাইনসের অস্ত্রাগারে দায়িত্ব পালনকালে তিনি এই আত্মঘাতী পথ বেছে নেন। এদিন বিকেলে নিথর দেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
নিহত সম্রাট বিশ্বাস গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের পদ্মবিলা গ্রামের শৈলেন বিশ্বাসের একমাত্র ছেলে। তিন সন্তানের মধ্যে সবার ছোট সম্রাটের অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। শনিবার বিকেলে শোকাবহ পরিবেশে গ্রামে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে পুলিশে যোগ দেন সম্রাট। চাকরিকালেই সাতক্ষীরা জেলা পুলিশে কর্মরত নারী কনস্টেবল পূজা দাসের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত অক্টোবর মাসে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের রেজিস্ট্রি বিয়ে সম্পন্ন হয়। আগামী ৩ মে সামাজিকভাবে কনেকে ঘরে তোলার কথা ছিল, কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
সম্রাটের পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে সম্রাটের বিরোধ চলছিল। এমনকি সম্রাট তাঁর বেতনের কোনো টাকা বাবা-মায়ের জন্য দিতে পারতেন না। সম্রাটের মামা সত্যজিৎ রায় জানান, সহকর্মীদের কাছ থেকে তাঁরা জেনেছেন যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। শুক্রবার রাতেও ফোনে স্ত্রীর সাথে সম্রাটের তীব্র বাক-বিতণ্ডা হয় এবং এরপরই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এই কলহের জেরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্রাটের বোনের স্বামী বিপ্লব কুমার সেন বলেন, "পরিবারের একমাত্র ছেলে হিসেবে যা চেয়েছিল তাই মেনে নেওয়া হয়েছিল। মা-বাবার সাথেও তাঁর কোনো ঝামেলা ছিল না। মূলত স্ত্রীর সাথে ক্রমাগত অশান্তির কারণেই সে এমন পথ বেছে নিয়েছে।" প্রতিবেশী আলমগীর ফকির সম্রাটকে একজন ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের ছেলে হিসেবে স্মরণ করে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এদিকে, সম্রাটের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন খুলনায় এলেও সম্রাটের গ্রামের বাড়িতে যাননি, যা দুই পরিবারের মধ্যে দূরত্ব ও রহস্য সৃষ্টি করেছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা শৈলেন বিশ্বাস ও মা যেন কিছুই বিশ্বাস করতে পারছেন না।
খুলনা রেলওয়ে জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে অস্ত্রাগারে দায়িত্ব পালনকালে সম্রাট নিজের ইস্যুকৃত চাইনিজ রাইফেল দিয়ে মাথায় গুলি চালান। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় পুলিশি তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...