বিজ্ঞাপন
আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে গেলে জানতে পারেন যে, তাদের নামে কোনো অ্যাডমিট কার্ড আসেনি। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। নির্বাচনী পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সোহেল মোড়ল তাদের ফরম পূরণের সুযোগ দেন। এ সময় বোর্ড নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, ফরম পূরণের নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে মোট কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই অর্থ আত্মসাতের জন্য তারা সরাসরি সহকারী শিক্ষক সোহেল মোড়ল ও অফিস সহকারী নূরে আলমকে দায়ী করছেন।
শিক্ষার্থী সেতু, আবৃত্তি, আনিয়া ও স্বর্ণা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে কৃতকার্য দেখিয়ে ফরম পূরণের নামে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছিল। এখন শুনছি অ্যাডমিট কার্ড আসেনি। আমাদের শিক্ষাজীবন ধ্বংসের মুখে। আমরা এই প্রতারণার বিচার চাই।” আয়শা ও লাবিবার মতো অন্য শিক্ষার্থীরাও শিক্ষকদের এমন আচরণকে ‘প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক সোহেল মোড়ল অনেকটা দায়সারাভাবে বলেন, “বিষয়টি ভুল হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।” একই সুর শোনা গেছে অফিস সহকারী নূরে আলমের কণ্ঠেও। তবে টাকা ফেরত দিলেই শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের এই অপূরণীয় ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বোরহান রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে মাদারীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন।
ইউএনও স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীদের সাথে এমন প্রতারণা করে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদক- রিপনচন্দ্র মল্লিক, মাদারীপুর।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...