বিজ্ঞাপন
রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাতটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরের কলাপসিবল গেটের সামনে ব্যানার নিয়ে তিনি এই কর্মসূচি শুরু করেন। তার এই দাবির সাথে সংহতি জানিয়ে ইতোমধ্যে আরও ২০ জন শিক্ষক অনশনে অংশ নিয়েছেন।
এর আগে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা হলে সাধারণ শিক্ষকরা এক সভায় মিলিত হন। সেখানে উপস্থিত প্রায় ৫০ জন শিক্ষক আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন। তবে শিক্ষক উপস্থিতি প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ায় সোমবার বেলা ১১টায় পুনরায় জরুরি সভার ডাক দেওয়া হয়েছে। সেখানেই পরবর্তী সম্মিলিত পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে আছে। অধ্যাপক পদের জন্য বোর্ড সম্পন্ন হলেও রহস্যজনক কারণে তাদের পদোন্নতি আটকে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, সহযোগী অধ্যাপক পদের জন্য বোর্ডই গঠন করা হচ্ছে না। একইসঙ্গে বিভাগগুলোতে শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। পদোন্নতি প্রত্যাশী শিক্ষকদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন অজুহাতে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র মতে, শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে প্রশাসনের সাথে জটিলতার মূল কারণ ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালার সাথে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অভিন্ন নীতিমালার কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ইউজিসি তাদের নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতি দিতে অনড় থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের পূর্বের নিজস্ব নীতিমালা বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
অনশনরত শিক্ষক ড. মো. জামাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, বিভাগে শিক্ষক সংকট এতটাই প্রকট যে একেকজন শিক্ষককে ১২ থেকে ১৪টি করে কোর্স নিতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা সহ্য করতে না পেরে এবং শিক্ষক হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ আন্দোলনের পথ হিসেবে তিনি অনশন বেছে নিয়েছেন। সোমবার অন্য সহকর্মীরাও এই আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আন্দোলনে সংহতি জানানো সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাদেকুর রহমান বলেন, ২০১৫ সালের নীতিমালা অনুযায়ী দুই বছর আগেই অনেকের পদোন্নতি পাওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হচ্ছে না। নানা অজুহাতে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার শিকার করা হচ্ছে বলেই তারা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম জানান, পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে ইউজিসির বর্তমান অবস্থান তিনি শিক্ষকদের স্পষ্ট করেছেন। বিষয়টি সমাধানে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইউজিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...