Logo Logo

বজ্রপাতে মৃত্যুঝুঁকিতে সুনামগঞ্জের হাওরবাসী, নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র এখন সময়ের দাবি


Splash Image

সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওর অঞ্চল প্রতি বছরই বজ্রপাতের এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। সরকারি-বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই জেলায় প্রতি বছর গড়ে ৩০ থেকে ৫০ জন মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারান। কেবল মানুষই নয়, বজ্রপাতে বিপুল সংখ্যক গবাদি পশু ও পাখপাখালি মারা গেলেও তার পূর্ণাঙ্গ কোনো হিসাব সংরক্ষিত থাকে না।


বিজ্ঞাপন


ভৌগোলিক কারণে হাওর অঞ্চলের কৃষকরা ধান কাটার মৌসুমে এবং জেলেরা মাছ ধরার সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন হন। খোলা হাওরে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে নিরাপদ আশ্রয়ের কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় শ্রমজীবী এই মানুষগুলো প্রাণ বাঁচানোর ন্যূনতম সুযোগটুকুও পান না।

এই সংকট নিরসনে দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয়রা হাওরের প্রতি এক থেকে দুই কিলোমিটার অন্তর একটি করে স্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন।

সচেতন মহলের মতে, বৈশাখ মাসে ধান কাটার সময় কৃষক এবং বর্ষাকালে জেলেরা যদি নিরাপদ ছাউনির নিচে দাঁড়ানোর সুযোগ পান, তবে বজ্রপাতে প্রাণহানির সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

সম্প্রতি এক মর্মান্তিক ঘটনায় এই প্রয়োজনীয়তা আবারও দৃশ্যমান হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার দুপুরে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের সময় সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। পৃথক এসব দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

নিহতরা মূলত ধর্মপাশা, তাহিরপুর, দিরাই ও জামালগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তারা ধান কাটা, ঘাস কাটা এবং হাঁস চরাতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হন। মাঠ পর্যায়ে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষের জীবনের এই নিরাপত্তাহীনতা হাওর অঞ্চলে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রের অভাবকেই নতুন করে সামনে এনেছে।

উল্লেখ্য, হাওরবাসীর প্রাণের এই দাবি ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জনাব কামরুজ্জামান কামরুল। তার এই উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী এলাকাবাসী।

হাওরবাসীর প্রত্যাশা, সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রতিটি হাওরে নির্দিষ্ট দূরত্বে আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করবে। এতে করে কৃষক ও জেলেসহ সর্বস্তরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন রক্ষা পাবে এবং প্রতি বছরের এই শোকাবহ পরিসংখ্যানের অবসান ঘটবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...