বিজ্ঞাপন
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় ২৭ নম্বরে সুবর্ণা ঠাকুরের নাম ‘বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক’ হিসেবে রয়েছে। এমনকি দ্বাদশ জাতীয় সংসদেও তিনি আওয়ামী লীগের নারী সংসদ সদস্য হতে জোর লবিং ও মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।
সোমবার (২০ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। এই তালিকার ২০ নম্বরে সুবর্ণা শিকদারের (ঠাকুর) নাম দেখে হতবাক হয়ে পড়েন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে তাকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় অবস্থায় দেখা গেছে। সুবর্ণা ঠাকুর শ্রীধাম ওড়াকান্দির ঠাকুর পরিবারের সদস্য এবং মতুয়া মহামিশনের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সভাপতি।
মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সুবর্ণা ঠাকুর বলেন, “কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু এতে আমার কোনো সম্মতি ছিল না। আমাকে না জানিয়েই তারা আমার নাম ব্যবহার করেছে। আমি কখনো কোনো মিছিলে বা মিটিংয়ে অংশ নেইনি। যেহেতু আমি নিজেকে ওই কমিটির অংশ মনে করিনি, তাই পদত্যাগ করার প্রশ্নই আসে না।”
তিনি আরও দাবি করেন, ছাত্রজীবনে খুলনা সিটি কলেজে পড়ার সময় তিনি বিএনপির ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে পেশাগত ও ধর্মীয় কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাওয়ার পূর্বতন বিষয়টি তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।
গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সুবর্ণা ঠাকুর উপজেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। এখন নতুন পদ পেতে তিনি দলের সঙ্গে প্রতারণা করছেন এবং মিথ্যাচার করছেন।”
এদিকে, বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা এই সিদ্ধান্তে চরম হতাশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা বলেন, “দলের দুঃসময়ে যারা হামলা-মামলা সহ্য করে রাজপথে ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন না করে অন্য দল থেকে আসা একজনকে মনোনয়ন দেওয়া ত্যাগীদের প্রতি অবিচার। এর ফলে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং দলের চেইন অফ কমান্ড ভেঙে পড়তে পারে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দল পুনর্গঠনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ ধরনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...