বিজ্ঞাপন
ঘটনাটি ঘটেছে গত ২০ এপ্রিল (সোমবার) সন্ধ্যায় উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের 'আল কারীম হিফজুল কুরআন নূরানী মাদ্রাসা'য়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ সোয়াইব হোসেন পলাতক রয়েছেন।
নির্যাতিত শিশু ফয়জুল করিম মুছা একই গ্রামের মোঃ রুহুল আমিন মুন্সীর ছেলে এবং ওই মাদ্রাসার হেফজ শাখার আবাসিক ছাত্র।
শিশুর মা মোসাঃ মুক্তা বেগম জানান, ছেলেকে হাফেজ বানানোর স্বপ্ন নিয়ে তিনি এই মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু ভর্তির পর থেকেই আবাসিক শিক্ষক সোয়াইব হোসেন তাকে কারণে-অকারণে শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় পড়া না পারার অজুহাতে তাকে অমানবিক ভাবে পেটানো হয়। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে তিনি মাদ্রাসায় গিয়ে ছেলের শরীরে রক্তাক্ত জখম দেখে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মাদ্রাসার পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে শিক্ষার্থীদের ওপর নিয়মিত নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, বিষয়টি তারা নিজেরা সমাধানের চেষ্টা করছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি মুঠোফোন কল কেটে দেন।
এদিকে, এই ঘটনায় ন্যায়বিচার চেয়ে নির্যাতিত শিশুর মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সোয়াইব হোসেন ও মাদ্রাসা পরিচালক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমিন বলেন, "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত করার কোনো সুযোগ নেই। এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
প্রতিবেদক- মোঃ জাহিদুল ইসলাম, বরিশাল।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...