বিজ্ঞাপন
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে উপজেলার রামশীল ইউনিয়নের মুশরিয়া গ্রামে। ভুক্তভোগীরা হলেন—বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার পয়সারহাটের স্বর্ণ ব্যবসায়ী কৃষ্ণ কর্মকার ও শীব শংকর কর্মকার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতে দোকান বন্ধ করে কোটালীপাড়া উপজেলার রতাল গ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন ওই দুই ব্যবসায়ী। পথে তারা স্থানীয় সিকিরবাজার এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা একটি মাইক্রোবাস তাদের গতিরোধ করে। এসময় গাড়িতে থাকা চার ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক দুই ব্যবসায়ীকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। কিন্তু তাদের কথাবার্তা ও আচরণে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা দ্রুত চারদিকে খবর ছড়িয়ে দেন এবং প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন।
ডাকাত দল গোপালগঞ্জ-পয়সারহাট সড়ক ধরে আগৈলঝাড়ার দিকে পালানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে কৃষ্ণ কর্মকারের পরিবারের লোকজন ও পয়সারহাটের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা দ্রুত সংগঠিত হয়ে মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করার চেষ্টা করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে ডাকাত দল পথ পরিবর্তন করে রামশীল ইউনিয়নের মুশরিয়া গ্রামের দিকে ঢোকার চেষ্টা করে। এসময় দুই দিক থেকে জনতা ঘেরাও করে ডাকাতদের ধরে ফেলতে সক্ষম হয়।
আটককৃত ডাকাতরা হলো—বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার পরমানশা গ্রামের সেকেন্দার ঢালীর ছেলে রবিউল ঢালী (২৫), বাকেরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিন দুধাল গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে ইলিয়াছ (৩২) এবং একই এলাকার নিজাম উদ্দিনের ছেলে পারভেজ (৩৩)। অন্যজন হলো বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার মিজানের ছেলে জহির (৩৮)।
পরে আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) আটক ডাকাতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোটালীপাড়া থানা পুলিশ রামশীল ইউনিয়নের মুশরিয়া স্লুইচগেটের পাশ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত র্যাবের পোশাক, হাতকড়া এবং একটি খেলনা পিস্তল উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াদ মাহমুদ ভোরের বাণী-কে জানান, "ডাকাতদের আটকের ঘটনায় কোটালীপাড়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠিয়ে জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে। এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...