বিজ্ঞাপন
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনে অপেক্ষমাণ শ্রমিকরা দৈনিক ভোরের বাণী প্রতিনিধিকে জানান, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে উত্তরাঞ্চলে কৃষি কাজের তেমন সুযোগ থাকে না। কর্মসংস্থানের অভাবে অনেকে বেকার হয়ে পড়েন, আবার অনেকে এনজিওর ঋণের কিস্তি ও পারিবারিক খরচ মেটাতে আগাম টাকা ধার করে গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন। দক্ষিণের জেলাগুলোতে ১০ থেকে ২০ দিন কাজ করে অর্থ উপার্জন শেষে নিজ এলাকায় ধান পাকলে তারা আবার ফিরে আসবেন।
সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের শ্রমিক বেলাল মিয়া (৪৫) জানান, প্রতি বছরই তিনি দল বেঁধে ধান কাটতে যান। এবারও পরিচিত গৃহস্থরা মুঠোফোনে কল করে ধান কাটার জন্য ডেকেছেন। বাড়িতে পরিবারের খাওয়া খরচ ও কিস্তির টাকা রেখে অবশিষ্ট সামান্য কিছু সম্বল নিয়ে তিনি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায়, শ্রমিকরা কাঁধে কাস্তে, রশি, বাহুঙ্গা আর কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন। ১০-১২ জনের ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে তারা মূলত সান্তাহার, বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও নাটোরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন। ওইসব অঞ্চলের কৃষকরা ফোনে জানিয়েছেন যে, প্রচণ্ড রোদে ধান পেকে জমিতেই ঝরে পড়ার উপক্রম হয়েছে, তাই দ্রুত শ্রমিকের প্রয়োজন।
প্রতি বছর এই মৌসুমে নীলফামারী জেলা থেকে কয়েক হাজার কৃষি শ্রমিক কাজের সন্ধানে অন্যত্র চলে যান। এক সময় শ্রমিকদের সাথে যোগাযোগের সহজ মাধ্যম না থাকলেও বর্তমানে মোবাইল ফোনের সুবাদে তারা সহজেই পরিবারের খোঁজ নিতে পারছেন এবং গৃহস্থদের সাথে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়েই কাজে যোগ দিচ্ছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...